Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

প্রতিটি লেখা একেকটি সন্তান জন্মদানের মতো

ঊর্মি রহমান ঊর্মি রহমান
প্রকাশ : শনিবার, ১৩ জুন,২০২৬, ০৭:২২ এ এম
আপডেট : শনিবার, ১৩ জুন,২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
প্রতিটি লেখা একেকটি সন্তান জন্মদানের মতো

র্মি রহমান। জন্ম ২৮ মে, যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলায়। পেশায়  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। ছোটবেলা থেকে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থেকেছেন। জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও আয়োজনে অংশগ্রহণ করে একাধিকবার প্রথম স্থান অর্জন করেছেন এবং পেয়েছেন নানা  পুরস্কার। তার এই অর্জন সৃজনশীলতা, অধ্যবসায় ও সাংস্কৃতিক দক্ষতার উজ্জ্বল স্বীকৃতি বহন করে। তিনি রসায়নে স্নাতকোত্তর । 

 শিক্ষকতা পেশায় নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ ও আন্তরিকতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা ও নৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। পাশাপাশি বর্তমানে তিনি সাহিত্যচর্চা ও লেখালেখির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত । শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সাহিত্য—এই তিন ধারার সমন্বয়ে তিনি সমাজমনস্ক, সৃজনশীল ও প্রগতিশীল চিন্তার ধারক হিসেবে নিজস্ব পরিচয় নির্মাণে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ধ্রুব নিউজের উপদেষ্টা সম্পাদক ড. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ

প্রশ্ন : "খড়ের গম্বুজ" শব্দবন্ধটি শুনলে আপনার মনে প্রথম কীসের ছবি বা স্মৃতির উদ্রেক হয়?

ঊর্মি রহমান : কবি আড্ডা। কারণ, এটা দিয়েই খড়ের গম্বুজ-এর সঙ্গে আমার যাত্রা শুরু। সেই সঙ্গে একটি গ্রাফ, যার চূড়া বাংলা সাহিত্য এবং প্রতিটি গাঁথুনিতে আছেন নতুন-পুরোনো লেখক, পাঠক ও সাহিত্যঅনুরাগী ব্যক্তিরা।

প্রশ্ন : এই তীব্র যান্ত্রিক ও নাগরিক সময়ে দাঁড়িয়ে নিজের শিকড় বা মাটির কাছাকাছি থাকাটা একজন লেখকের জন্য কতটা জরুরি?

ঊ. রহমান: খুব জরুরি। শিকড় ভুলে গেলে শিখরে পৌঁছানো যায় না।

প্রশ্ন : আপনার লেখায় গ্রামীণ জীবন, লোকজ উপাদান কীভাবে জায়গা করে নেয়? কোনো বিশেষ অভিজ্ঞতা আছে কি?

ঊ. রহমান: আমার জন্ম গ্রামে। যদিও শৈশব ও কৈশরের অনেকটা সময় কেটেছে জেলা শহরে, তবুও গ্রামীণ জীবনের অনেক কিছুই আমার লেখায় চলে আসে। বিশেষ করে গ্রামে কাটানো দুরন্ত শৈশব ও শেকড়ের টান।

প্রশ্ন : আমরা কি ক্রমশ আমাদের ঐতিহ্যবাহী সাহিত্যিক রূপগুলো হারিয়ে ফেলছি? সেই অভাব কীভাবে পূরণ করা যেতে পারে?

ঊ. রহমান: হয়তো কিছুটা। তবে সাহিত্য তো জীবনের সঙ্গে বহমান। জীবনযাত্রা বদলালে সাহিত্যের রূপও বদলাবে—এটাই স্বাভাবিক। আজকাল অনেক সাহিত্যিক আছেন, যারা আগের সাহিত্যিকদের মতো প্রাণ খুলে লেখেন না, মনের ক্ষুধা থেকে লেখেন না। অনেকে বই প্রকাশ করতে চান বা রাতারাতি কবি-লেখক হতে চান। অর্থাৎ, শখের লেখক হতে চান।

প্রশ্ন : এমন কোনো বই বা সাহিত্যকর্মের কথা বলবেন, যা পড়ার পর আপনার মনে হয়েছে—এটি সরাসরি মাটির গন্ধ থেকে তৈরি?

ঊ. র : মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখায় আমি সেই মাটির গন্ধ পাই।

প্রশ্ন : আপনার লেখার আদর্শ পরিবেশ কোনটি? লেখার সময় কোনো বিশেষ অভ্যাস বা অনুঘটক কি আপনাকে সাহায্য করে?

ঊ. র : আদর্শ পরিবেশ পাই রাতে, সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর—যখন নিজের সঙ্গে কথোপকথনটা ভালোভাবে করা যায়। আমার মনে হয়, আমি নিজেকে বিভিন্ন রূপ ও অবস্থানে দাঁড় করাতে পারি। ছোটবেলা থেকেই একটি অভ্যাস ছিল—যে বই পড়েছি, তার পূর্ণ চিত্ররূপ যেন মস্তিষ্কে তৈরি হয়ে যেত। কোনো কিছু  চোখের সামনে না থাকলেও তা উপলব্ধি করতে পারি। চারপাশের সবকিছুই তো লেখার জন্য অনুঘটক। শুধু দৃষ্ট মেলে উপলব্ধি করা প্রয়োজন।

প্রশ্ন : আপনার কোনো জনপ্রিয় লেখার পেছনের এমন কোনো অজানা গল্প আছে, যা পাঠক বা দর্শকরা আগে কখনো শোনেনি?

ঊ. র : আমার প্রতিটি লেখার পেছনেই কোনো না কোনো গল্প আছে। তবে আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘থেকে যাবো ধূসর ডানায়’-এর বেশির ভাগ কবিতা পড়লে বোঝা যাবে, আমি কখনো কোনো পরিস্থিতিতে ভেঙে পড়ি না। জীবন, প্রেম, একাকিত্ব, ভালো-মন্দ—সবকিছুই আমি সমানভাবে উপভোগ করি।

প্রশ্ন : লেখার শুরুর মুহূর্তের যে মানসিক লড়াই বা প্রথম লাইনটি লেখার দ্বিধা, তা আপনি কীভাবে পার করেন?

ঊ. র : আমি নিজেকে সময় দিই। ব্যস্ত হই না। প্রতিটি লেখা ★একেকটি সন্তান জন্মদানের মতো। সময় হলে তা ভূমিষ্ঠ হবেই।

প্রশ্ন : একটি লেখা শেষ হওয়ার পর আপনার অনুভূতি কেমন হয়? আপনি কি নিজের লেখা নিয়ে সহজে সন্তুষ্ট হতে পারেন?

ঊ. র : আমি বারবার পড়ি—মানে, বারবার। আর একটা কথাই মনে হতে থাকে—যা লিখতে চেয়েছিলাম, তার কিছুই যেন ঠিকমতো হয়নি।

আরও পড়ুন-

ঊর্মি রহমানের কবিতা ঊর্মি রহমানের কবিতা

প্রশ্ন : যদি আপনাকে আপনার নিজের যেকোনো একটি চরিত্র বা কবিতার লাইনের সঙ্গে তুলনা করতে বলা হয়, আপনি কোনটি বেছে নেবেন এবং কেন?

ঊ. র : এভাবে বাছাই করা কঠিন। চারটি লাইন বলি।

“তুমি ও তোমরা রং করা খোলসের

আড়ালে জীর্ণ, মৃতপ্রায়।

আমি তোমাদের হতাশ করে আজও বেঁচে আছি।

প্রতিক্ষণে বাঁচবার হাজারটা কারণ জন্মে আমার।

অমরত্বের জাদুমন্ত্রে চিরযৌবনা আমি।”

কারণ, আমি জীবনের প্রতি গভীরভাবে আশাবাদী এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও বেঁচে থাকার কারণ খুঁজে পাই।

প্রশ্ন : বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া এবং রিলস/শর্ট ভিডিওর যুগে মানুষের পড়ার অভ্যাস কমে যাচ্ছে কি? সাহিত্যকে এর সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নিতে হবে?

ঊ. র : কমছে, তবে মানুষ পড়ছেও। আগে বই কিনেই পড়ত, কিন্তু এখন তো স্ক্রিনেও পড়া যায়। সে কারণে বই পড়ার হারটা আরও কম মনে হয়। সাহিত্য তার নিজের গতিতে চলুক, সাহিত্যে আধুনিকতা আসুক। একসময় কফি হাউসে বসে প্রেমের কথা লেখা হতো, এখন রেস্টুরেন্টে বসে কোল্ড কফি খেতে খেতে প্রেমের কথা আসবে। চিঠির পরিবর্তে ইমেল আসবে। তা বলে প্রেমে, আবেগ, অনুভূতি তো আর বদলে যাবে না।

প্রশ্ন : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর এই যুগে মানুষের আবেগের জায়গা থেকে মৌলিক সাহিত্য সৃষ্টির ভবিষ্যৎ আপনি কেমন দেখছেন?

ঊ. র : আমি পজেটিভ মানুষ।AI অনেক কিছু সহজ করে দিচ্ছে, তবে মানুষের আবেগ, অনুভূতি ও জীবনবোধের জায়গা কখনোই পুরোপুরি দখল করতে পারবে না। সাহিত্য মূলত মানুষের আত্মার প্রকাশ। তাই মৌলিক সাহিত্য সবসময়ই টিকে থাকবে। তবে লেখকদের আরও সচেতন ও গভীর পাঠে মনোযোগী হতে হবে। নিজেকে ভাঙতে হবে, নতুন নতুন  সৃষ্টি করতে হবে।

প্রশ্ন : সমকালীন তরুণ লেখকদের লেখার মধ্যে কোন শক্তি বা কোন সীমাবদ্ধতা আপনার সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে?

ঊ. র : আমিও তো তরুণ লেখক। এ বিষয়ে যারা প্রবীণ আছেন, তারা আরও সুন্দরভাবে বলতে পারবেন। তবুও আমার মনে হয়েছে—বই না পড়া এবং নিজের লেখা নিয়ে প্রচণ্ড আত্মতৃপ্তিতে থাকা।

প্রশ্ন :  একটি ম্যাগাজিন বা পত্রিকার ছোট পরিসরে সাহিত্যচর্চা এবং একটি আস্ত বই লেখার মধ্যে একজন লেখকের মানসিকতায় কী তফাত থাকে?

ঊ. র : সাহিত্যচর্চা করছেন এটাই তো বিরাট মানসিকতা। সবকিছুই ছোট থেকে শুরু হয়। সবাই একদিনে বই প্রকাশের সাহস বা সুযোগ পায় না। যার ভেতরে লেখকসত্তা প্রবলভাবে বিরাজ করে, তিনি নিজেই তাঁর কলমকে নিয়ন্ত্রণ করতে অপারগ হন। তবে চর্চাটা জরুরি। ছোট ছোট লাইন দিয়েই হাজার পাতার বই তৈরি হয়।

প্রশ্ন : বর্তমানের সাহিত্য সমালোচনা কি তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছে? একজন লেখকের মূল্যায়নে পাঠকের ভূমিকা এখন কতখানি?

ঊ. র : হ্যাঁ, অনেক ক্ষেত্রেই নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। সবাই প্রশংসা শুনতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। আমরা কেউই আর সমালোচনা নিতে চাই না। অথচ পাঠকের পূর্ণ অধিকার আছে লেখার সমালোচনা করার। না হলে লেখক নিজেকে উন্নত করবেন কীভাবে? আত্মতৃপ্তি কখনো নতুন ও আরও উন্নত কিছুর তাড়না তৈরি করে না।

প্রশ্ন :  জীবনের শুরুর দিকের আপনার যে সাহিত্যিক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাতে কী ধরনের বড় রূপান্তর বা পরিবর্তন এসেছে?

ঊ. র : পরিবর্তন এসেছে, মনে করি আরও আসবে। আমার বই পড়ার হাতেখড়ি ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাজী নজরুল ইসলাম, বঙ্কিমচন্দ্র  চট্টোপাধ্যায়,  শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়রে মতো সাহিত্যিকদের সৃষ্টি পড়ে। একটা সময় পর্যন্ত মনে হতো, এদের বাইরে আর কেউ কিছু লিখতে পারেন না; যা লেখেন, তা কোনো সাহিত্য নয়। তবে যখন এর বাইরে যখন পড়তে শুরু করলাম, তখন বুঝলাম—এতদিন কত বড় ভুলের মধ্যে ছিলাম।

প্রশ্ন :  একজন লেখকের কি সমাজ বা রাজনীতির প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা থাকা উচিত, নাকি সাহিত্য কেবলই খাঁটি শিল্পের জন্য হওয়া উচিত?

ঊ. র : শুধু ‘উচিত’ বললে ভুল হবে—লেখক দায়বদ্ধ। যে লেখা বা শিল্প সমাজের একফোঁটাও উপকার, জাগরণ বা অগ্রগতি ঘটাতে পারে না, তেমন লেখা দিয়ে কি কাজ।

প্রশ্ন :  এমন কোনো লেখার স্বপ্ন কি আপনার আছে, যা আপনি এখনো লিখে উঠতে পারেননি কিন্তু একদিন লিখতে চান?

ঊ. র : এমন স্বপ্ন, আমার মনে হয় প্রতিটি লেখকের শেষ দিন পর্যন্ত থাকে। যা লিখতে চাই, তা না লিখতে পারার তাড়নাই লেখকের কলমকে চলমান রাখে। বিশ্বকবিও বোধহয় তাঁর বেলাশেষের দিনটিতেও তাঁর সেই কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের লেখাটি লিখে যেতে পারেননি।

প্রশ্ন : আপনার জীবনের এমন কোনো ঘটনা বা ট্র্যাজেডি আছে, যা আপনার লেখার পুরো মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল?

ঊ. র : ট্রাজেডি নয় তবে ২০২১–২০২২ সাল—যখন জীবন আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছিল। যদিও জীবন প্রতিটি মুহূর্তে  শেখায়, তবে ঐদুই বছর আমার জীবনের অনেক কিছুর মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।

প্রশ্ন :  "খড়ের গম্বুজ"-এর পাঠক এবং নতুন প্রজন্মের সাহিত্যিকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।

ঊ. র : পাঠকদের প্রতি আমার অনেক অনেক ভালোবাসা। সঙ্গে বলব—পড়ুন, সমালোচনা করুন। আপনারা যত পড়বেন, আমাদের কলম ততই নতুন সৃষ্টি করবে। ভালো লেখাকে গুরুত্ব দিন, স্রোতে গা ভাসাবেন না।

আমি নিজেও নতুন প্রজন্মের একজন।  আমার সহযোদ্ধাদের জন্য অনেক শুভকামনা।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)