Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

যারা জনরায় মানে না তারা জনগণের সরকার হতে পারে না : জামায়াত আমির

ধ্রুব নিউজ ধ্রুব নিউজ
প্রকাশ : শনিবার, ১৩ জুন,২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
যারা জনরায় মানে না তারা জনগণের সরকার হতে পারে না : জামায়াত আমির

শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান এমপি। ছবি: ধ্রুব নিউজ

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, ‘যে সরকার জনগণের রায় মানে না, সে সরকার জনগণের সরকার হতে পারে না।’কুখ্যাত ব্যাংক ডাকাতদের গাড়িতে করে রিসিপশন নেয়া ব্যক্তিরা জনগণকে কিছু দিতে পারে না বলেও এসময় মন্তব্য করেন তিনি। সেইসাথে পাশে ভালো মানুষ রাখতে প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দেন তিনি।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

শনিবার (১৩ জুন) বেলা ২টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন মেকানিজমে সরকারে গিয়ে এখন বলছেন ৫১ ভাগ মানুষ আপনাদেরকে ভোট দিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছে। ভালো কথা, কিন্তু ৭০ ভাগ মানুষ যে ভোট দিয়ে বলেছে- জনগণের গণরায় মানতে হবে, সেটা মানছেন না কেন? ৫১ ভাগ বুঝলেন, ৭০ ভাগ বুঝতে পারলেন না?’

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘ভালো মানুষ পাশে রাখুন, যাদের অন্তরে দেশপ্রেম আছে, মানবতাবোধ আছে, চরিত্র উন্নত, যারা চাঁদাবাজদের চাঁদাবাজির ভাগিদার নয়, তাদেরকে বসান। একজন কুখ্যাত ব্যাংক ডাকাত, তার গাড়িতে করে যারা রিসিপশন নেয় তাদের দ্বারা আপনার সরকার জনগণকে কিছু দিতে পারবে না।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমার কষ্ট লাগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য। তার আশেপাশে উনি কাদেরকে বসিয়েছেন। উনি কুমিল্লায় এসে ইপিজেড দেন, ফরিদপুরে গিয়ে সয়াবিন তেল দেন, সংসদে গিয়ে প্রাথমিক বিশ্ববিদ্যালয় উপহার দেন। আর কক্সবাজারে এসে বলেছেন এই বাজেটে মাদক ও ধূমপান জাতীয় দ্রব্যের ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে বলে বিরোধী দল তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে মিছিল করেছে। যা মিথ্যা, ভুয়া। বিরোধীদলের কেউ এটা করে নাই।’

‘আমার করুণা লাগে প্রধানমন্ত্রীর এই পদ রাষ্ট্রীয় পদ, তিনি রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী। তার দিকে তাকিয়ে বিশ্বের জনগণ বাংলাদেশকে মূল্যায়ন করে। তার মুখ দিয়ে ওই সমস্ত ভুল কথা বের হতে থাকলে বাংলাদেশ লজ্জিত হবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এদেরকে চিহ্নিত করুন, যারা আপনাদেরকে ভুল বলাচ্ছে। আপনার সম্মান মানে বাংলাদেশের সম্মান, এদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিন। নইলে ক্ষতিগ্রস্ত শুধু আপনি হবেন না, গোটা জাতিকেই আপনি ক্ষতিগ্রস্ত করবেন,’ বলেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, ‘বাজেট নিয়ে বিরোধীদল প্রতিক্রিয়া জানাবে, এটা খুবই স্বাভাবিক। এটা গণতন্ত্রের নির্যাস, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য্য, এতে রাগ করার কি আছে, অল্পতে ধৈর্য্য হারালে ১৮ কোটি মানুষের দায়িত্ব পালন করবেন কিভাবে? জনগণ সমর্থন দেবে, প্রশংসা করবে, জনগণ যখন দেখবে জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আপনার সরকার আন্তরিক। কিন্তু জনগণ যখন দেখবে ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে আপনার অপমান বা অগ্রাহ্য করছেন, তখন জনগণ বসে বসে আঙ্গুল চুষবে না। রায় দিয়েছে জনগণ, মানতে হবে সরকারকে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম জনগনের সকল সমস্যার সমাধান সংসদে হোক, সরকার চায়নি, আমাদেরকে তারা ঠেলে দিয়েছে জনগণের কাতারে। যদি গণভোটের রায় মেনে নেয়া হতো, আজকের বিভাগীয় সমাবেশের প্রয়োজন হতো না। একটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশ, সীমান্তে কি হচ্ছে, না হচ্ছে এ বিষয়ে আলোচনা করার জন্য আমরা সংসদে নোটিশ দিয়েছি, আমাদের নোটিশকে নিয়ে টালবাহনা করা হচ্ছে।’

তিনি প্রশ্ন রাখেন— ‘কারে খুশি করতে চান? কারে খুশি করে দেশ পরিচালনা করতে চান? যদি বাংলাদেশের সরকার হয়ে দেশ পরিচালনা করে থাকেন, তাহলে এই ধরনের ইস্যু সংসদে আলোচনা করতে দিতে হবে। আমরা সংসদে উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য আলোচনা করবো না, আমরা আলোচনা করবো বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বকে সুসংহত করার জন্য। কিন্তু আমাদেরকে সেই সুযোগ থেকে যদি বঞ্চিত রাখা হয়, মনে রাখবেন জাতির সাথে গাদ্দারি করে কেউ পার পাবে না ইনশাআল্লাহ। আমি কথা দিচ্ছি জাতির সাথে আমরা গাদ্দারি করবো না। জীবনের বিনিময়ে হলেও আমাদের দেয়া কথা রক্ষা করবো।’

তিনি বলেন, ‘দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না। জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করা গণতন্ত্রের চেতনার পরিপন্থী। জনগণ তাদের ভোটাধিকার ও গণরায়ের যথাযথ প্রতিফলন দেখতে চায়। সরকার যদি জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণই তার জবাব দেবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে যোগ্য, সৎ ও দেশপ্রেমিক লোকদের মূল্যায়ন না করে ভিন্নমতাবলম্বীদের দমন এবং দলীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হচ্ছে। সংসদে জনগণের সমস্যা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে গেলেও নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। অথচ সংসদ জনগণের কথা বলার জায়গা।’

ডা: শফিকুর রহমান আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা বিদেশী শক্তির কাছে ইজারা দেয়া হবে না। দেশের ১৮ কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে এই দেশকে রক্ষা করবে। আমরা জাতির সাথে বেঈমানি করবো না; জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও প্রস্তুত আছি।’

তিনি বলেন, ‘জনগণ আশা করেছিল নির্বাচিত সরকার আসলে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে, বাংলাদেশের কোনো জায়গায় চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। দেশে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি আজ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। নির্বাচিত ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে এসব অপসংস্কৃতির অবসান ঘটবে। জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের সংগ্রাম চলবে সংসদেও, রাজপথেও। ভয়ভীতি, মামলা-হামলা কিংবা কারাবাসের হুমকি দিয়ে জনগণের আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, ‘সরকারঘোষিত বাজেট সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকট, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় জনগণ চরম দুর্ভোগে রয়েছে। অথচ বাজেটে এসব সংকট মোকাবেলায় কার্যকর কোনো দিকনির্দেশনা নেই।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর মন খারাপ, মন খারাপ করে কক্সবাজারে বলেছেন- বিরোধীদল কেন বাজেটের সমালোচনা করে? প্রধানমন্ত্রীর মন খারাপ দেখে আমাদেরও মন খারাপ। আমরা চেয়েছিলাম আপনার বাজেটের প্রশংসা করতে। কিন্তু আপনি দুর্নীতির রাস্তা বন্ধ করেননি। লুটপাটের রাস্তা বন্ধ করেন নাই। ব্যাংক দখল বন্ধ করেন নাই। আমরা জানি না এই বাজেটের কত টাকা জনগণের উন্নয়নে ব্যয় হবে, কত টাকা আপনার নেতা-কর্মীর পকেটে যাবে? আপনি একটা বাজেট দিয়েছেন, যার সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। যে বাজেট বাস্তবায়ন করতে হলে কয়েক লাখো-কোটি টাকা ঋণ নিতে হবে ভিন্ন দেশ থেকে। ফলে এই বাজেটের সমালোচনা বিরোধীদল হিসেবে আমাদের করতেই হবে। আমরা সুস্পষ্টভাবেই বলেছিলাম, সুশাসন, স্বচ্ছতা, সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে দুর্নীতি বন্ধ হবে না, চাঁদাবাজি-লুটপাট বন্ধ হবে না। আজকে হাড়ে হাড়ে বাংলাদেশের জনগণ সেটা দেখতে পাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ব্যাংক দখল শুরু হয়ে গেছে। ইসলামী ব্যাংককে নতুন করে আবার এস আলমের হাতে তুলে দেবার বন্দোবস্ত করছে। আপনি যতই অস্বীকার করুন না কেন, আমরা জানি এস আলমের গাড়িতে চড়ে কে বাংলাদেশে সংবর্ধনা নিয়েছিল। এস আলমকে কারা প্রোটেশশন দিচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ জানে। ইসলামী ব্যাংকে কাদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে এটাও বাংলাদেশের জনগণ জানে। বাংলাদেশের জনগণ এটা মেনে নেবে না।’

‘বিদ্যুতের দাম নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। গ্রামে-গঞ্জে কোথাও বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। বিদ্যুতের দাম এই সরকারকে বাড়াতে হবেই। কারণ এই সরকার আওয়ামী লীগের সরকারের বড় অসম চুক্তি বহাল রেখেছে। আদানির চুক্তি আপনাকে বাতিল করতেই হবে, নইলে আপনি বিদ্যুতের দাম কোনোদিনই বাংলাদেশে কমাতে পারবেন না। আপনি আদানির চুক্তি বহাল রাখবেন, আপনি ইসলামী ব্যাংককে নতুন করে এস আলমের হাতে তুলে দেবেন, আপনি দুর্নীতি-চাঁদাবাজি বন্ধ করার জন্য কোনো ধরনের সংস্কার করবেন না, আর বাজেটকে বিরোধী দল প্রশংসা করবে এটা বেশি প্রত্যাশা হয়ে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে জনগণের জীবনে যে দুর্ভোগ নেমে এসেছে, তা দেশের মানুষকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। সরকার জনগণের কষ্ট উপলব্ধি না করে সমালোচনাকে উপহাসের চোখে দেখছে। বাস্তবতা হলো, দেশের অর্থনীতি ও জনজীবন আজ গভীর চাপের মধ্যে রয়েছে।’

নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, ‘ব্যাংকিং খাত, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার জন্য জাতীয় সম্পদকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়া যাবে না। জনগণের আমানত ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে পরিচালনা করতে হবে।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বাংলার আকাশ আর ভারতের আকাশ এক নয়, বাংলার মাটি এবং ভারতের মাটিও এক নয়, সেটা ১৯৪৭ সালেই ফায়সালা হয়ে গেছে।’

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল (অব) অলি আহমদ (বীর বিক্রম) বলেন, ‘দেশের সার্বিক পরিস্থিতি জনগণকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সামাজিক অস্থিরতা এবং জননিরাপত্তার সংকট সাধারণ মানুষের জীবনকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। নারীরা ঘরের বাইরে নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছে, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ বিরাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিক হত্যার ঘটনায় সরকারকে আরো কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষায় শক্তিশালী, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের বিকল্প নেই।’

তিনি চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের সংস্কার ও সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘এটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং চট্টগ্রামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। সরকারের উদ্যোগে দ্রুত এর প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম গ্রহণ করা উচিত।’

অলি আহমদ বলেন, ‘সরকারকে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কার্যকর নেতৃত্ব দিতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া জরুরি। দেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণেও সরকারের বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন।’

তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি বিভিন্ন ধরনের লোক দ্বারা বেষ্টিত, তাদের সম্পর্কে আপনি অবগত হোন। অন্যদেশকে দোষ দিয়ে লাভ নাই, অন্য দেশের দালাল বাংলাদেশে যারা আছে তাদেরকে নিশ্চিহ্ন করেন। আগে ঘর সামলান, তারপরে বাহিরের কথা চিন্তা করেন। ইঁদুর তো আমার ঘরে, যে ইঁদুররা সব সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার জন্য তৎপর। বৃটিশের আন্দোলন এখান থেকে শুরু হয়েছিল, পাকিস্তানের বিরুদ্ধেও স্বাধীনতার আন্দোলন এখান থেকে শুরু হয়েছে। এই সরকারের বিরুদ্ধেও যদি প্রয়োজন হয়, আন্দোলন চট্টগ্রাম থেকে শুরু হবে।’

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ও জনমতের বিপরীতে অবস্থান গ্রহণ না করে জনগণের দাবি মেনে নেয়াই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার সঠিক পথ।’

তিনি বলেন, ‘২৪-এর আন্দোলনের ভীত রচিত হয়েছিল ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে। শাপলা চত্বরের বীর শহীদ পরিবারগুলোকেও রাষ্ট্রীয় সম্মানরা এবং স্বীকৃতির জোর দাবি জানাচ্ছি।’

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, ‘জনগণের অধিকার ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে আপসের কোনো সুযোগ নেই। সীমান্ত হত্যা ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করতে হবে।’

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইজহার বলেন, ‘গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে টালবাহানা বন্ধ করতে হবে। জনগণের ভোট ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হলে জনগণই তার জবাব দেবে।’

আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশে জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষা করে কোনো রাজনৈতিক শক্তি টিকে থাকতে পারবে না। জাতীয় স্বার্থ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।’

বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ‘দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দুর্নীতি, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজি উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জনগণ এসবের অবসান চায়।’

খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন বলেন, ‘জুলাইয়ের চেতনা ছিল একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘জুলাই চেতনা ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ গড়তে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। কর্তৃত্ববাদী ও স্বৈরশাসকদের পরিণতি কখনো শুভ হয় না। আমরা সরকারকে বিরোধী দলসমূহকে সাথে নিয়ে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।’

সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন- জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এমপি প্রমুখ।

সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাছির উদ্দিন পাটওয়ারি, নেজামে ইসলাম পার্টি কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আলী ওসমান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম এমপি, জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা এস এম সুজা উদ্দিন, জাতীয় নাগরিক পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরী আহ্বায়ক মীর মো: শোয়াইব, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ চট্টগ্রাম মহানগরী সভাপতি মাওলানা এমদাদুল্লাহ সোহাইল, খেলাফত মজলিশ চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি অধ্যাপক খোরশেদ আলম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর মাওলানা জিয়াউল হোসাইন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরী সভাপতি সৈয়দ গিয়াসুদ্দিন আলম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরী সভাপতি আবু মোজাফফর মুহাম্মদ আনাস, বাংলাদেশ লেবার পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরী সভাপতি আলা উদ্দিন আলী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোবায়ের মাহমুদ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আমির আলা উদ্দিন সিকদার, কক্সবাজার জেলা আমীর ইসলামী অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহম্মদ আনোয়ারী, চাকসু ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি, ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগরী দক্ষিণ সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন, চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তর সভাপতি মুহাম্মদ মুমিনুল হক প্রমুখ।
 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)