কী লিখি! চোখে কী যেন পড়ে আছে আজ দু'দিন
ঝাপসা, মেঘলা থেকে থেকেই ভিজে যাচ্ছে অনবরত
আড়াল, আবডালে মনে মনে মিলিয়ে যাচ্ছি
তার আর আমার লেনাদেনা, বেচাকেনা
তার মতো আমিও তো মা, একজন মা।
ফেসবুকে ঢুকলেই পোকা যুক্ত নোংরা মৃত মায়ের ছবি
হিতাহিত জ্ঞান যেন লোপ পায় আজ।
ভাবি, তিনিও তো আমার মতোই একজন সন্তানঅন্ত মা ছিলেন নিশ্চয়ই
তা নাহলে সন্তানের এত এত বাহারি পরিচয়!
এমনও নয়, বড় কোনো পরিচয় না থাকলেও মা তো মা-ই
দিনরাত একাকার কোলের সন্তানের যত্নে থাকে না ত্রুটি
যেই মা নিজে খাওয়ার আগে সন্তানদের পেটে
আহার ঢুকিয়ে
তবেই না নিজের প্লেটে তুলে নিয়েছেন খাবার।
তিনিও তো নিশ্চয় আমার মতোই নিশ্ছিদ্র মশারীর নিরাপত্তায় ঢেকে দিয়ে
মধ্যরাতে ঘুমাতে গিয়েছেন প্রতিরাতে।
খুবভোরে তিনিই তো ঘুমচোখে কাকভোরে যত্নসহকারে খাইয়ে, ব্যাগ গোছাতেন
বিদ্যালয়ের নির্ধারিত সিটে বসিয়ে দিয়েছেন নিশ্চিন্তে।
ও হো ভুলে গেছি, ভুল হলো-
সব কিছুর আগে তিনিই তো চারটি ভ্রুণ থেকে বাচ্চাতে রূপান্তর করতে নয় মাস দশদিন নিয়মে
জঠরে জড়িয়ে ছিলেন কঠোর মমতায়।
তিনিই তো দুধভাত মেখে নিয়ে বসে থেকেছেন আজীবন
তারও আগে নিজের স্তন নিঃসৃত পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ খাদ্যে উদর পুরিয়েছেন সবারই।
আর তাদের পরিপূর্ণ বেড়ে ওঠার,
সারাজীবনের কথা বাদই দিলাম -
এমনি এমনি তো বলা হয় নি-
'পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো।
তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি
তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হন,
তবে তাদেরকে ‘উহ্’ (বিরক্তিসূচক) শব্দটিও বলো না
এবং তাদেরকে ধমক দিও না; বরং তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বলো'
আর এমনি এমনি তো বলা হয় নি-
‘মায়ের পায়ের নীচে সন্তানের বেহেস্ত’।
তবে কেন আজ তাকে এইভাবে অযত্ন,
অবহেলায় মরে পচে গলে যেয়ে খবরের শিরোনাম হতে হলো?
কে নেবে দায়? এটা কার অন্যায়?
এ বিচার শেষ পর্যন্ত কীভাবে হয়?
এই পৃথিবীতেই হবে নিশ্চয়।
জাতি তাই হা- মুখে চেয়ে আছে
খবরের পাতায় পাতায়।
হবে অবশ্যই। কিন্তু কীভাবে?
সেটাই আজ যুঝে নিতে
চোখ খুলে কিছুই দেখতে পাই না যেন!