কবিতা
আটপৌরে কষ্ট
আটপৌরে কষ্টের ডালি
সোনালি ভোরের আলোয় পসরা সাজায়।
এ যেন এক খেলাঘর, নিত্য চলে বেচা কেনা।
সাদা কষ্ট, নীল কষ্ট, বিদগ্ধ স্মৃতিময় বর্ণহীন কষ্ট—
এমন হাজারো কষ্ট দেখি হরেক দামে।
আমি শুধু কিনে চলি দায়িত্বের নামে।
পাখির কন্ঠ অবরূদ্ধ,
সজোরে গাইতে ক্ষতবিক্ষত কন্ঠনালি।
তবুও বেহায়া কোকিলা সুখস্বপ্নে বিভোর।
আদিম ক্ষুধায় যেন পৃথিবীকে গ্রাস করে অজস্র রাতের তারা।
চেয়ে রয় বিরহিনী নতুন কোনো প্লাবনের পানে।
আমরা দুইডা খাইয়া বাঁচি
আমরা বাপু মুখ্যু-সুখ্যু মানুষ
হেনোকালে সুহের দেহা পাইলাম না।
সেই ছোড্ডকালে হুনছি বাপডা
কলেরায় মরছে,
মায়ে আমারে অনেক কষ্টে পালছে।
শ্যাষে বিয়া দিছে আরেক পোড়া
কপাইল্যার লগে।
সেই থেইকা খালি খাডছি আর খাডছি।
দুমুঠো ভাতের লাইগ্যা,একটু মাথা গুজবার ঠাঁইডার লাইগ্যা।
হায়রে বিধি, সুহের নাগাল পাইলাম না!
পাহাড়ি পন্থে ছোট্ট পোলাডারে
শরীরের লগে পেঁচাইয়া হাড়ভাঙা
খাডুনি খাডি।
শহরের বড়ো বড়ো মানুষজন
বেবাক সুহে থাহে,আমগের দিহে
চাহনের হ্যাগোর ফরসুত নাই।
সামান্য দুইডা টাহার জালাই
কত্ত কতা যে হুনছি।
পোলাডা আমার একদিন পইরা
গরাইতে গরাইতে একবরো বাবুর
পার লগে এমন ধাক্কা খাইছে—
বাবুডা আমার পোলার গায়ে হাত
দিবার নাকি ঘেন্না পাইছে।
আহারে বিধি, কেউ বুঝেনা আমাগোর ব্যথা!
বেবাক জিনিসের দাম বাইড়া দ্বিগুন হইছে,
দুবেলার খাওন একবেলারডা দিয়াই সারি।
আন্দারে বাতি জ্বালাইবো, টাহা পামু কই?
ভাড়া বাইড়া আগুন হইছে,
বেবাক পথডা হাইডা হাইডা পারি দিই।
দুইডা টাহা ব্যতন বারাইবার কথা কইলে,
বাবু কইবো, " কাল থেইকা কাজে আইবি না"
এই ভয়ে কষ্টডারে চাইপা রাহি।
মাঝে মধ্যে অসুখ লইয়াও কামে
আহি,ঘরে থাইকা খামু কী? ওষধ পামু কই?
আমাগোর গতরের দাম আছে নি?
বিধি আমগোর কপালে কি সুহের দেহা মিলবো না?
সমাজের বড়ো বড়ো মানষের নজর
আমগোর দিহে পড়বো না?
হ্যাগোর নজর আমগোর দিহে
ফিরাইয়া দাও বিধি,আমরা দুইডা
খাইয়া বাঁচি, আমরা দুইডা খাইয়া ...
আরও পড়ুন-