সিদ্দিকা লাকী
আমরা অনেকেই "টেকেন ফর গ্র্যান্টেড" (কোনো কিছুকে অবহেলা করা বা স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া) বিষয়টি সম্পর্কে হয়তো জানি। সাধারণ অর্থে, কোনো কিছু নিশ্চিতভাবে ধরে নেওয়াকে অথবা "এটা হওয়াই তো স্বাভাবিক"—এমন মনোভঙ্গিকেই "টেকেন ফর গ্র্যান্টেড"হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সহজ উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি এভাবে বোঝানো যায়—ধরুন, একটি ছেলে বা মেয়ে পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল করেছে বা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। সাধারণত আমাদের সমাজের আশি শতাংশ পিতামাতা বা স্বজনেরাই তাকে তিরস্কার করে থাকেন বা বকাবকি করেন। ধরে নেওয়া হয় যে তাকে দিয়ে আর কিচ্ছু হবে না। কিন্তু কে জানে, বহু "ড্রপআউটস" (ঝরে পড়া বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে ছিটকে পড়া সফল ব্যক্তি)-দের মতো সেও কোনোদিন নিজের যোগ্যতায় জ্বলে উঠতে পারে!
আবার একজন সন্তান যখনই ভালো ফলাফল করে, তখনই তার প্রতি পরিবারের প্রত্যাশা আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। যেন অমুক বিশ্ববিদ্যালয়ের তমুক বিষয়ে না পড়তে পারলে জাতকুল—সবই চলে যাবে! অথচ কেউ ভেবে দেখে না, সে আসলে নিজের জীবনের লক্ষ্য কী স্থির করতে চায়, অথবা কোন বিষয়টি তাকে সবচেয়ে বেশি টানে। তার যেটা ভালো লাগে, সে সেটাই করুক না কেন!

গ্রাফিকস: এআই
একইভাবে চিন্তা করুন, একটি মেয়ে যখন কারো স্ত্রী হিসেবে বাবার বাড়ি ছেড়ে আসে, তার প্রতিও শুরু হয় এই ধরনের মনোভঙ্গি। সংসার সমুদ্রে অসীম পথে পাড়ি দিতে না দিতেই তার ওপর আরোপিত হতে থাকে নানা বাধ্যবাধকতা। সাধারণত "হাউস ওয়াইফ" (গৃহিণী) আর কর্মজীবী স্ত্রীদের যাপিত জীবনের ধরণ আলাদা হয়ে থাকে। সবাই চেষ্টা করে সংসারটাকে ভালোবেসে স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুখ অনুভব করতে। কিন্তু নারীদের প্রতি কেন জানি সমাজ ও পরিবারের এক বিশেষ মনোভাবের প্রকাশ দেখা দেয়—যেখানে তাদের প্রাপ্য "রিকগনিশন" (স্বীকৃতি বা মূল্যায়ন) পাওয়াটা অনেকটাই দুষ্প্রাপ্য হয়ে দাঁড়ায়। যারা নারীদের এই ঘরে-বাইরে অবদানকে স্বীকৃতি দেন, তাদের আমি অন্তরের অন্তস্তল থেকে সাধুবাদ জানাই।
আসলে, " টেকেন ফর গ্র্যান্টেড" হলো অবহেলামূলক একটি মানসিকতা। এ ধরনের মনোভঙ্গির শিকার যারা হয়, তারা নিজেদের গুণাবলীতে জ্বলে উঠতে পদে পদে বাধাগ্রস্ত হয়। আপনার সামান্য একটু পজিটিভ মনোভঙ্গি, একটুখানি স্বীকৃতি কিংবা ছোট্ট একটা উদযাপন আরেকজনকে হয়তো "ক্যান্ডেল লাইট ডিনার" (মোমবাতির আলোয় উষ্ণ নৈশভোজ)-এর মতোই গভীরভাবে উজ্জীবিত ও প্রাণোচ্ছ্বল করতে পারে।
আসুন, আমরা সবাই " টেকেন ফর গ্র্যান্টেড " বা অবহেলা মানসিকতা পরিহার করি এবং নিজেকে ইতিবাচক মানসিকতার একজন বাহক হিসেবে গড়ে তুলি।
সবার জন্য শুভকামনা।
লেখক: কবি, গদ্যকার ও মোটিভেশনাল স্পিকার। অতিরিক্ত ডিআইজি হিসাবে সিআইডিতে কর্মরত।