ধ্রুব ফিচার
সারা দিন রোজা রাখার পর শরীরে পানিশূন্যতা রোধ করতে সাহ্রির সময় সঠিক পরিমাণে পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। তবে আমাদের মধ্যে একটি সাধারণ ভুল ধারণা প্রচলিত আছে যে, শেষ রাতে একবারে অনেক বেশি পানি পান করলে সারা দিন আর তৃষ্ণা পাবে না। এই ভাবনা থেকে অনেকেই সাহ্রির ঠিক শেষ মুহূর্তে ঢকঢক করে গ্লাসের পর গ্লাস পানি পান করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, একবারে অতিরিক্ত পানি খাওয়ার এই অভ্যাসটি মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। খাবার খাওয়ার পরপরই বা খাওয়ার মাঝখানে প্রচুর পানি পান করলে পাকস্থলীর এনজাইমগুলো পাতলা হয়ে যায়, যা হজম প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটায় এবং পেটে অস্বস্তি বা গ্যাসের উদ্রেক করতে পারে। সুস্থ থাকতে হলে সাহ্রির সময় সব মিলিয়ে প্রায় তিন গ্লাস তরল বা পানি পান করা যেতে পারে, তবে তা অবশ্যই ধাপে ধাপে খেতে হবে। একবারে না খেয়ে কিছুটা সময় বিরতি দিয়ে ভাগে ভাগে পানি পান করলে শরীর তা সঠিকভাবে শোষণ করতে পারে।
পানির চাহিদা মেটাতে কেবল সাধারণ পানির ওপর নির্ভর না করে ফলের রস বা পানি সমৃদ্ধ ফলও খাদ্যতালিকায় রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। সাহ্রির সময় চা বা কফি পান করা থেকে বিরত থাকা উচিত, কারণ ক্যাফেইন শরীরকে আরও বেশি পানিশূন্য করে ফেলে এবং ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ তৈরি করে শরীরের প্রয়োজনীয় পানি বের করে দেয়। এর বদলে তরমুজ, বাঙ্গি, আপেল বা কলার মতো ফল শরীরকে দীর্ঘক্ষণ আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। যারা রোদে কাজ করেন বা রান্নাঘরের উত্তাপের মধ্যে দীর্ঘ সময় কাটান, তাদের পানির চাহিদা অন্যদের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকে। তাদের ক্ষেত্রে সাহ্রির সময় বিরতি দিয়ে তরল গ্রহণের পরিমাণ বাড়ানো প্রয়োজন। তবে এক্ষেত্রেও মূল খাবার খাওয়ার অন্তত ১৫-২০ মিনিট আগে পানি পান সেরে ফেলা এবং খাওয়ার অন্তত ১৫-২০ মিনিট পর পুনরায় পানি পান করা সবথেকে কার্যকর নিয়ম।
সারা দিনের পানির তৃষ্ণা মোকাবিলা করার জন্য কেবল সাহ্রির পানির ওপর নির্ভর না করে ইফতার থেকে সাহ্রি পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ধাপে ধাপে পানি খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত। একবারে অতিরিক্ত পানি খেলে তা রক্তে সোডিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এবং কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। সঠিক নিয়মে পানি পানের জন্য সাহ্রির সময় হাতে কিছুটা সময় রেখে ঘুম থেকে ওঠা জরুরি, যাতে খাবার ও পানি পানের মধ্যে পর্যাপ্ত সময়ের ব্যবধান রাখা যায়। পরিমিতি বজায় রেখে এবং সঠিক সময় মেনে পানি পান করলে তীব্র গরমেও শরীর পানিশূন্য হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে এবং রোজা রেখেও সারাদিন সতেজ থাকা সম্ভব হয়। মনে রাখবেন, শরীরকে সুস্থ রাখতে পানির পরিমাণের চেয়ে পানের সঠিক পদ্ধতি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।