ধ্রুব ফিচার
পবিত্র রমজান মাসে আবহাওয়া যখন কিছুটা অনিশ্চিত—না শীত, না গরম—তখন শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সুস্থ থেকে পুরো মাস ইবাদত করতে প্রয়োজন একটি বিজ্ঞানসম্মত ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস। ইফতারের শুরুতেই পাকস্থলীকে হুট করে ভারী খাবারে অভ্যস্ত না করে একটি বা দুটি খেজুর দিয়ে শুরু করা উচিত। খেজুরকে বলা হয় পুষ্টির 'পাওয়ার হাউস', যাতে থাকা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম তাৎক্ষণিক শক্তি জোগানোর পাশাপাশি হার্ট ও মস্তিষ্কের সুরক্ষা দেয়। এরপর অল্প অল্প করে বিশুদ্ধ পানি, ডাবের পানি বা লেবুপানি পান করা শরীরের পানিশূন্যতা রোধে কার্যকর। পানীয়র গুণ বাড়াতে এর সাথে তোকমাদানা বা চিয়া সিড মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে।
বাঙালি ইফতার টেবিলের অবিচ্ছেদ্য অংশ মুড়ি নিয়ে আমাদের বিশেষ সচেতনতা প্রয়োজন। মুড়ি দ্রুত শক্তি দিলেও এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অত্যন্ত বেশি (প্রায় ১০৫), যা রক্তে শর্করার মাত্রা হুট করে বাড়িয়ে দেয়। তাই মুড়ি খেতে হবে পরিমিত পরিমাণে এবং এর সাথে অবশ্যই প্রোটিনজাতীয় খাবার যেমন ছোলা বা বাদাম এবং ফাইবার সমৃদ্ধ সালাদ মিশিয়ে নিতে হবে। ডুবো তেলে ভাজা পিঁয়াজু, বেগুনি বা আলুর চপ ইফতারের স্বাদ বাড়ালেও এগুলো হৃদ্রোগ, স্ট্রোক এবং বুকজ্বালার প্রধান কারণ। তাই ভাজাভুজি বর্জন করে অঙ্কুরিত ছোলার সাথে শসা-টমেটো অথবা টক দই দিয়ে চিড়া বা ওটস খাওয়া অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। পুষ্টির বিচারে মুড়ির চেয়ে পপকর্ন বেশি এগিয়ে থাকলেও দেশি আমেজে মুড়িকে স্বাস্থ্যকর করতে এর সাথে পর্যাপ্ত সালাদ ও প্রোটিনের সমন্বয় অপরিহার্য।
অনেকেই রাতের খাবার বাদ দিয়ে সরাসরি সাহ্রি করেন, যা স্বাস্থ্যের জন্য মোটেও ভালো নয়। রাতের খাবার হবে হালকা ও সহজপাচ্য, যেমন লাল আটার রুটি বা ভাত এবং সাথে মাছ, মাংস বা সবজি। এই সময়ে এক কাপ টক দই খেলে তা ক্ষতিগ্রস্ত কোষ পুনর্গঠনে ও হজমে চমৎকার কাজ করে। সাহ্রির খাবার হতে হবে অন্যান্য সময়ের দুপুরের খাবারের সমপরিমাণ। বেশি খেলে সারাদিন ক্ষুধা লাগবে না—এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল, কারণ খাবার চার-পাঁচ ঘণ্টা পর ঠিকই হজম হয়ে যায়। সাহ্রির প্লেটের অর্ধেকটা থাকা উচিত মিশ্র সবজি দিয়ে ভরা, আর বাকি অর্ধেক শর্করা ও প্রোটিন। শেষ সময়ে এক গ্লাস কুসুম গরম দুধ বা দুধ-চিড়া খেলে দীর্ঘক্ষণ শরীরে শক্তির জোগান থাকে। মনে রাখবেন, রমজান মানেই সংযম; খাবারের ক্ষেত্রে এই পরিমিতিবোধই আপনাকে পুরো মাস সতেজ ও রোগমুক্ত রাখতে সাহায্য করবে।