ধ্রুব ফিচার
একটি 'সুপারফুড’ খেজুর ছবি:
রমজান মাসে ইফতারের পাতে দু-তিনটি খেজুর না থাকলে যেন পূর্ণতাই আসে না। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না, স্রেফ একটি ফল দিয়ে ইফতার শুরু করার মাধ্যমে আমরা অজান্তেই শরীরের কতটা বড় উপকার করছি। আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, খেজুর কেবল রমজানের ফল নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি রোগব্যাধি দূরে রাখতে এটি একটি 'সুপারফুড'।
১০০ গ্রাম খেজুরে প্রায় ২৭৭ থেকে ৩১৪ ক্যালরি থাকে। এটি আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ ও ভিটামিনের এক বিশাল ভাণ্ডার:
· পটাশিয়াম: দৈনিক চাহিদার ১৫%
· ম্যাগনেশিয়াম: ১৩ থেকে ১৪%
· কপার ও আয়রন: প্রায় ৪০%
· ভিটামিন: পর্যাপ্ত ভিটামিন বি৬ এবং শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট।
১. হজমশক্তি ও কোলন ক্যানসার প্রতিরোধ খেজুরে রয়েছে উচ্চমাত্রার দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধিতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত খেজুর খেলে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়। এছাড়া এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে বলে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক।
২. হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ খেজুরে থাকা পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের (লবণ) ভারসাম্য বজায় রাখে। এটি ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরল কমিয়ে ভালো এইচডিএল বাড়ায়। ফলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমে এবং হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের আশঙ্কা হ্রাস পায়।
৩. মস্তিষ্কের সুরক্ষা ও স্মৃতিশক্তি খেজুরে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট মস্তিষ্কে প্রদাহ সৃষ্টিকারী প্রোটিন ‘ইন্টারলিউকিন ৬’-এর মাত্রা কমিয়ে দেয়। এটি আলঝেইমারস বা স্মৃতিভ্রমের মতো রোগ প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
৪. হাড়ের মজবুত গঠন সেলেনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, তামা ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ উপাদান খেজুরে প্রচুর পরিমাণে থাকে। এগুলো অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয় রোধ করে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ ও নারীদের হাড়ের ঘনত্ব রক্ষায় খেজুরের বিকল্প নেই।
অন্যান্য শুকনা ফলের তুলনায় খেজুরে ফ্ল্যাভোনয়েড, ক্যারোটিনয়েড ও ফেনোলিক অ্যাসিডের ঘনত্ব অনেক বেশি। এই উপাদানগুলো শরীরের কোষকে ‘ফ্রি র্যাডিক্যাল’ জনিত ক্ষতি থেকে বাঁচায়, যা বার্ধক্যকে দূরে ঠেলে দিয়ে তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।
খেজুরে থাকা ভিটামিন বি৬ ও ম্যাগনেশিয়াম প্রজনন ক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে। এছাড়া প্রচুর আয়রন থাকায় এটি চুল পড়া রোধ করে। গর্ভবতী মায়েরা নিয়মিত খেজুর খেলে রক্তশূন্যতার ঝুঁকি থেকে মুক্তি পান।
সুস্থ থাকতে সারা বছরই দিনে ২ থেকে ৩টি খেজুর খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত। তবে যারা দ্রুত ওজন কমাতে চান বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তারা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খেজুরের ধরণ ও পরিমাণ নির্ধারণ করবেন।
পরিশেষে: ইফতারের শুরুটা খেজুর দিয়ে করা কেবল সুন্নাহ নয়, এটি একটি বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। তাই রমজানের বাইরেও আপনার প্রতিদিনের নাস্তায় খেজুর রাখুন।