ধ্রুব ফিচার
ছবি: প্রতীকী
পবিত্র রমজান মাস মানেই বিকেলের আকাশে ইফতারের প্রতীক্ষা। আর বাঙালির ইফতার টেবিল মানেই বিশাল এক গামলায় ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ আর জিলাপির সাথে মুড়ির সেই রাজকীয় মাখামাখি। অনেকের কাছে ইফতার মানেই যেন একমুঠো মুড়িমাখা। কিন্তু চিরায়ত এই অভ্যাসের আড়ালে শরীরের ভেতর কী ঘটছে? দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর এই মুড়ি কি আসলেই উপকারী, নাকি অজান্তেই আমরা কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি ডেকে আনছি?
মুড়ি মূলত একটি উচ্চ প্রক্রিয়াজাত শর্করা। এক কাপ (প্রায় ১৪ গ্রাম) মুড়ির পুষ্টিগুণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
· শক্তি: ৫৬ কিলোক্যালরি
· শর্করা: ১২.৬ গ্রাম (সিংহভাগই কার্বোহাইড্রেট)
· প্রোটিন: মাত্র ০.৯ গ্রাম
· ফাইবার: মাত্র ০.২ গ্রাম
· চর্বি: ০.১ গ্রাম
· খনিজ: সামান্য আয়রন ও বি-ভিটামিন (বি৬, নিয়াসিন)।
পুষ্টিবিদদের মতে, মুড়ির প্রধান সমস্যা এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI)। এর মান প্রায় ১০৫, যা সাধারণ চিনির চেয়েও বেশি। অর্থাৎ, এটি খাওয়ার সাথে সাথে রক্তে শর্করার মাত্রা রকেটের গতিতে বেড়ে যায়।
কেন এটি ভালো? সারাদিন না খেয়ে থাকার পর মস্তিষ্ক ও শরীরের কোষগুলো দ্রুত গ্লুকোজ বা শক্তি চায়। মুড়ির শর্করা খুব দ্রুত ভেঙে শরীরে তাৎক্ষণিক এনার্জি জোগায়। তাই ইফতারের শুরুতে অল্প মুড়ি ক্লান্তি দূর করতে সহায়ক।
কেন এটি ঝুঁকিপূর্ণ? মুড়িতে ফাইবার বা আঁশ এবং প্রোটিন অত্যন্ত কম। ফলে এটি খাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই পেট খালি হয়ে যায় এবং পুনরায় ক্ষুধা লাগে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো 'সুগার স্পাইক'। রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে গিয়ে আবার দ্রুত কমে গেলে ইফতারের পর ক্লান্তি, ঝিমুনি, এমনকি মাথা ঘোরার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।