Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

কক্সবাজারে নিখোঁজ ৪ জনের বাড়ি যশোরের মণিরামপুরে

নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : রবিবার, ১৮ অক্টোবর,২০২৬, ০৭:৩২ এ এম
আপডেট : রবিবার, ১৮ অক্টোবর,২০২৬, ০১:৩৪ পিএম
কক্সবাজারে নিখোঁজ ৪ জনের বাড়ি যশোরের মণিরামপুরে

কক্সবাজার থেকে ফেসবুকে পোস্ট করা ছবি। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতে কাঠের তৈরি 'টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টে' ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে রিসোর্টে থাকা একই পরিবারের চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত তাঁদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ চারজন হলেন—যশোরের মণিরামপুর পৌরসভার মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬) এবং তাদের দুই শিশুসন্তান রুজাইনা ইনায়া (৬) ও সুনাইনা ইহানা (৩)।

নাহিদুর ঢাকায় শ্যামলীতে ‘গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড’ নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিপণন বিভাগে কর্মকর্তা ছিলেন। পরিবার নিয়ে তিনি ঢাকার শ্যাওড়াপাড়া ও মোহাম্মদপুর এলাকায় বসবাস করতেন। অগ্নিকাণ্ডের পর নাহিদুরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে স্বজনদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছেন পরিবারের সদস্য ও কর্মক্ষেত্রের সহকর্মীরা। স্বজনদের আশঙ্কা, উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের মধ্যে তাঁরাও থাকতে পারেন।

স্বজনেরা জানান, নাহিদুর মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ক্রিমিনোলজি ও পুলিশ সায়েন্স বিভাগে পড়াশোনা করেছেন। নাহিদুরের বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স মণিরামপুর পৌরশহরে বসবাস করেন। নাহিদুর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজারের হোটেলটির বুকিংয়ের বিলের ছবি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান জাহিদুর। বিলের কপিতে দেখা যায়, নাহিদুর ১১ অক্টোবর রিসোর্টটি বুকিং দিয়েছিলেন এবং ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত একটি কক্ষ বুকিং করা ছিল। ১৮ অক্টোবর দুপুর ১টায় তাদের রিসোর্ট ছাড়ার কথা ছিল।

জাহিদুর জানান, নাহিদুর শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) কক্সবাজার যাবেন বলে জানিয়েছিলেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) আগুনের ঘটনা জানার পর ভাইকে মোবাইলে ফোন দেন তিনি। কিন্তু ফোনে নাহিদুর বা পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে ভাইকে না পেয়ে শনিবার সন্ধ্যায় নিজে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। জাহিদুর জানান, তাঁরা দুই ভাই, মা নেই। অসুস্থ বাবা গ্রামের বাড়িতে থাকেন এবং বাবা এখনো নাহিদুরের এই দুর্ঘটনার কথা জানেন না। গৃহিণী স্ত্রীকে নিয়ে নাহিদ ঢাকায় থাকতেন, ছুটি বা উৎসবে গ্রামে আসতেন। তাঁরা বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন, সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে আফসানা মতিন তানজির বোন, স্কুলশিক্ষক ফারজানা মতিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "ওরা খুব সুখী ছিল। একদম ফুলের মতো। ওদের দিকে তাকালে তাকিয়েই থাকতে ইচ্ছা করবে শুধু।" ছোট বোন, বোনজামাই আর দুই ভাগনির কথা বলতে গিয়ে বারবার তাঁর কণ্ঠ থামছিল। তিনি জানান, গত শুক্রবার সকালে কক্সবাজারে পৌঁছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন তাঁরা। আফসানা তাঁর মায়ের কাছে রিসোর্টটির বিবরণ দিয়ে জানিয়েছিলেন, দোতলা কাঠের তৈরি রিসোর্টটির এক বারান্দা থেকে সমুদ্র দেখা যায়, অন্যটি থেকে পাহাড়। সকালের নাশতায় বুফের ব্যবস্থাও রয়েছে।

ফারজানা মতিন আরও জানান, শনিবার দুপুরের দিকে তিনি ফেসবুকে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের খবর দেখেন। খবরের সঙ্গে ছোট বোনের পরিবারের বেড়াতে যাওয়ার বিবরণ মিলে যাওয়ায় তাঁর সন্দেহ জাগে। এর আগে সকাল সাতটার দিক থেকেই নাহিদ ও আফসানার মুঠোফোন বন্ধ পাচ্ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। ফারজানা বলেন, "আমার বোনজামাই তো মোবাইল বন্ধ রাখে না। ও অফিসের কাজে গেলেও ফোন বন্ধ রাখার ছেলে নয়। সকাল সাতটা থেকে দুজনের ফোন বন্ধ। তখন থেকেই আমার মনে হচ্ছিল, ওরা কোনো বিপদে পড়েছে।" প্রথমে ভেবেছিলেন হয়তো বেড়াতে গিয়ে ব্যস্ত আছেন, কিন্তু অগ্নিকাণ্ডের খবর জানার পর উদ্বেগ বাড়তে থাকে। ফায়ার সার্ভিস, হাসপাতাল এবং চেনা-পরিচিত সবার কাছে খোঁজ নিয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য মেলেনি। পরে ইন্টারনেটে রিসোর্টের নথি থেকে নাহিদুরের নাম ও নম্বর পান তাঁর বন্ধুরা।

দুই ভাগনি রুজাইনা ইনায়া (৬) ও সুনাইনা ইহানাকে স্মরণ করে ফারজানা বলেন, "ওরা সকাল-সন্ধ্যা ভিডিও কলে কথা বলত। ওই দুই মেয়েকে নিয়ে আমাদের কত আনন্দ! আমরা তো ওদের নিয়েই বাঁচতাম। ওরা কোথায় হারিয়ে গেল, ওদের কি আর ফিরে পাব না?"

নাহিদুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে জানতে চাইলে রাতে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, নাহিদ একজন নিখোঁজ রয়েছেন—এটি জানা গেছে, তবে বাকিদের বিষয়ে তথ্য জানা যায়নি। তিনি জানান, ছয়জন নিখোঁজ ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলেও বাকি চারজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ শনাক্ত করতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফিরোজ কবির বলেন, "কারোর পরিচয়ই আসলে নিশ্চিত হয়নি। ডিএনএ টেস্টের আগে সেটা সম্ভবও নয়। যাদের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো পরিবারের দাবি। সবার পরিচয় নিশ্চিত হতে কিছুটা সময় লাগবে।"

এদিকে নাহিদুর ও তার পরিবার নিখোঁজের খবর শনিবার রাতে ছড়িয়ে পড়লে মণিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাদের ছবি পোস্ট করে সমবেদনা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এর আগে, শনিবার সকালে উখিয়া উপজেলার মেরিন ড্রাইভের ইনানীর পাটুয়ার টেকের টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লেগে ১০ জন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন রয়েছেন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, সকাল সাড়ে ৬টায় আগুন লাগে এবং দুই ঘণ্টার চেষ্টায় সাড়ে ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। উদ্ধার হওয়া ১০টি লাশ ভয়ানকভাবে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়ায় চেনার উপায় নেই। ডিএনএ পরীক্ষা করেই তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করা হবে।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)