Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

রিসোর্টে পুড়ে মারা গেলেন পরিবারের ৬ জনসহ ১০জন

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : শনিবার, ১৭ অক্টোবর,২০২৬, ০৬:১৩ পিএম
রিসোর্টে পুড়ে মারা গেলেন পরিবারের ৬ জনসহ ১০জন

আগুনে পুড়ে যাওয়া রির্সোর্ট, ইনেসেটে নিহত একই পরিবারের ৫জন। ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রী-সন্তান-শ্যালক ও তিন শ্যালিকাকে হারালেন নূর আলম
 ‘স্ত্রী বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ। তারপরও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাতে কক্সবাজার বেড়াতে যান। আমি নিজেও সঙ্গে গিয়েছিলাম। কক্সবাজার পৌঁছানোর পর অফিশিয়াল কাজের প্রয়োজন হওয়ায় আমি শুক্রবার চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসি। আজ শনিবার সকালে গণমাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের খবর জানার পর খোঁজ নিয়ে দেখি নিহত ছয়জনই আমার পরিবারের সদস্য।’

কথাগুলো বলছিলেন চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত ওষুধ কোম্পানি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের জ্যেষ্ঠ বিপণন কর্মকর্তা নূর আলম।

শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতে কাঠের তৈরি একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ জন নিহত হন। তাঁদের ছয়জনই একই পরিবারের সদস্য। তাঁরা হলেন নূর আলমের স্ত্রী ফারিয়া কবির (৩৩) ও পাঁচ বছর বয়সী সন্তান ফাইজান নূর, শ্যালক নাসির উদ্দিন (২৫) এবং তিন শ্যালিকা ইসরাত জাহান মালিহা ৩০), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩)। নিহত আরেকজন হলেন নাফিসতা মীম (২৭)।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে নূর আলমের পরিবার ছাড়া অন্যরা রাজধানীর বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায় থাকতেন। নিহত বাকি তিনজনের নাম–পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ ছয়জন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারা হলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), ইসমাইল হোসেন মাসুদ (৩০) ও তাঁর স্ত্রী মেহেরুন নেছা (২৭), মান্নান (৩৪) ও সামিদা (৩২)।

আহত ইসমাইল হোসেন ও তার স্ত্রী মেহেরুন নেছা সম্পর্কে ফারিয়া কবিরের মামা–মামি। তাদের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দক্ষিণ ঠেটালিয়া গ্রামে। হতাহতদের স্বজন ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আহাদ এ কথা জানিয়েছেন।

নূর আলমের বাড়ি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বড়কোঠা ইউনিয়নের গাজিরপাড় গ্রামে। কর্মসূত্রে প্রায় আট বছর ধরে তিনি চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত। পেশাগত কারণে সপরিবার চুয়াডাঙ্গা শহরের দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ার একটি বাসায় ভাড়ায় থাকতেন।

বেলা সোয়া দুইটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কক্সবাজারের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।শনিবার সকালে টুপটুপ নামে একটি রিসোর্টে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নাফিস তেহামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের ৫ম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং লায়লা জাহান নাবিলা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল প্রাং এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নাফিসসহ তার পরিবারের ছয়জন মারা গেছেন। আরও কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া, এ ঘটনায় মোট ১০ জন নিহতের খবর আমরা জানতে পেরেছি। 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের সদস্যদের আজ শনিবার সকালে ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। তবে সকালে রিসোর্টে আগুন লাগার সময় তারা ঘুমিয়ে ছিলেন। এ কারণে তারা বের হতে পারেননি।

এ বিষয়ে উখিয়ার ইউএনও পান্না আক্তার বলেন, ‘এখন পর্যন্ত দশ জনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। আমরা প্রাথমিকভাবে ধারনা করছি, এর মধ্য একই পরিবারের ছয়জন সদস্য হতে পারে। তবে ডিএনএ রিপোর্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

এদিকে শিক্ষার্থীদের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। এক বার্তায় ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখের ও বেদনার। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার শোকাহত। 

এক শোকবার্তায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)