ধ্রুব নিউজ ডেস্ক
টেসলা রোডস্টারের প্রাথমিক প্রোটোটাইপ ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের রকেট নির্মাণ কেন্দ্রে গাড়ির দুনিয়ায় এক নজিরবিহীন প্রদর্শনী উপহার দিলেন টেসলাপ্রধান ইলন মাস্ক। দীর্ঘ ৯ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রকাশ্যে আনা হলো বহুল আলোচিত টেসলা রোডস্টারের নতুন সংস্করণ। তবে এটি কেবল আর দশটি সাধারণ দ্রুতগতির বৈদ্যুতিক স্পোর্টস কার নয়; বিশেষ প্রযুক্তির কল্যাণে গাড়িটি অনায়াসে মাটি ছেড়ে শূন্যে ভেসে থাকতে, ডিগবাজি দিতে এবং একাধিক গাড়ি টপকে অবতরণ করতে সক্ষম। গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ম্যাকগ্রেগরে অবস্থিত স্পেসএক্সের পরীক্ষাকেন্দ্রে এক জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে গাড়িটির এই বিশেষ সক্ষমতা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা হয়। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রদর্শনীটির একটি রোমাঞ্চকর ভিডিও শেয়ার করেন মাস্ক, যেখানে ঘন ধোঁয়ার কুন্ডলী ও ঝলমলে স্পটলাইটের মধ্যে সাদা রঙের একটি রোডস্টারকে শূন্যে ভেসে নানা চমকপ্রদ কসরত দেখাতে দেখা যায়।
টেসলা ও স্পেসএক্সের যৌথ প্রকৌশলে তৈরি এই গাড়িটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ঠান্ডা গ্যাসের থ্রাস্টার এবং ফ্যানভিত্তিক বিশেষ ‘সাকশন’ প্রযুক্তি। স্পেসএক্সের রকেটে ব্যবহৃত থ্রাস্টার প্রযুক্তির আদলে নির্মিত এই ব্যবস্থা গাড়িটিকে মাটি থেকে ওপরে তোলার পাশাপাশি শূন্যে থাকা অবস্থায় এর গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। অন্যদিকে এর সাকশন ব্যবস্থা সর্বোচ্চ ২-জি (2G) পর্যন্ত আকর্ষণ বল তৈরি করতে পারে, যা গাড়িটিকে শূন্যে ডিগবাজি খাওয়ানো বা শূন্যে ভাসিয়ে রাখার গতিশীলতায় অনন্য মাত্রা যোগ করে। গতির দিক থেকেও প্রকৌশলের সব রেকর্ড ভেঙে দেওয়ার দাবি করেছে টেসলা। তাদের মতে, রোডস্টারটি ঘণ্টায় ৩৭০ কিলোমিটারেরও বেশি গতিতে ছুটতে পারবে এবং থ্রাস্টার প্রযুক্তির সাহায্যে মাত্র এক সেকেন্ডের কম সময়ে স্থির অবস্থা থেকে ঘণ্টায় ৯৬ কিলোমিটার গতি তুলতে সক্ষম। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে ইতিমধ্যেই গাড়িটিকে ‘পদার্থবিজ্ঞানের সীমার বাইরে’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ইলন মাস্ক তার বন্ধু ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা পিটার থিয়েলের একটি পুরোনো মন্তব্যের কথা স্মরণ করেন, যেখানে পিটার আক্ষেপ করে বলেছিলেন যে মানুষ ভবিষ্যতের উড়ন্ত গাড়ির আশা করলেও বিনিময়ে পেয়েছিল কেবল ১৪০ অক্ষরের প্ল্যাটফর্ম। টুইটারের সেই সাবেক অক্ষরসীমার প্রসঙ্গ টেনে রসিকতা করে মাস্ক বলেন, এখন আর দিনটি তেমন নেই, উড়ন্ত গাড়ির স্বপ্ন আজ সত্যি। তবে প্রদর্শনীতে নানা কৌশল দেখালেও মাস্ক স্পষ্ট করেছেন যে, গাড়িটিকে মূলত সাধারণ সড়কেই নিরাপদে চলাচলের উপযোগী যান হিসেবে বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০১৭ সালে প্রথম ঘোষণার পর থেকেই রোডস্টার প্রকল্পটি অটোমোবাইল জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। আর এবার নতুন উদ্ভাবনের প্রকাশ ঘটলেও এর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হতে প্রযুক্তিপ্রেমীদের ২০২৮ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।