কোটচাঁদপুর প্রতিনিধি
মন্দিরে মন্দিরে সেজে উঠেছে দুর্গা প্রতিমা ছবি: ধ্রুব নিউজ
ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর। দেবীর জাগরণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। এ বছর উপজেলায় ৪৯টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে পৌর শহরেই রয়েছে ১৯টি মণ্ডপ। উৎসবকে আনন্দঘন, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ করতে প্রস্তুতি নিয়েছেন আয়োজকেরা।
মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে প্রতিমা সাজানো, আলোকসজ্জা ও প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ। পূজাকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। পাশাপাশি সব ধর্মের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
জাতীয়তাবাদী হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের কোটচাঁদপুর উপজেলা সভাপতি প্রবীর কুমার বলেন, দুর্গোৎসব আনন্দ, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের উৎসব। ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও আমরা সবাই একই সমাজের অংশ। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদ্যাপন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
কোটচাঁদপুরের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্যজোটের পৌর সভাপতি শান্তি বিশ্বাস বলেন, দুর্গোৎসবকে ঘিরে সবার মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ বিরাজ করছে। সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণে উৎসবটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সম্প্রীতিই উৎসবের মূল শক্তি।
কোটচাঁদপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক সুবাস কুমার রায় বলেন, “এ বছর সবচেয়ে আনন্দের সঙ্গে ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে আমরা আশাবাদী। আমরা সবাই সরকারের ওপর খুশি। পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
এদিকে, গত ৮ অক্টোবর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দুর্গাপূজার প্রস্তুতিমূলক সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হুসাইন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদ্যাপনের ওপর গুরুত্ব দেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যেকোনো সমস্যা দ্রুত প্রশাসনকে জানানো এবং গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়।
আয়োজকেরা আশা করছেন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদ্যাপন কমিটি ও স্থানীয় মানুষের সমন্বিত সহযোগিতায় প্রতিটি মণ্ডপে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় থাকবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে কোটচাঁদপুরের দুর্গোৎসব হয়ে উঠবে আনন্দ, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের মিলনমেলা।