Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

ষাটগম্বুজ মসজিদ নির্মাণে লাগে ১২ বছর

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
ষাটগম্বুজ মসজিদ নির্মাণে লাগে ১২ বছর

দেশের মুসলিম স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদ। এ মসজিদ ঘিরে আরো রয়েছে ১৭টি নিদর্শন। অনন্য উচ্চতায় ষাটগম্বুজসহ বেশকিছু প্রাচীন মসজিদ থাকায় ১৯৮৫ সালে বাগেরহাটকে ঐতিহাসিক মসজিদের শহর হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করে জাতিসংঘের শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইউনেস্কো। জনশ্রুতি আছে ১৪০০ খ্রিস্টাব্দের মাঝের দিকে সম্রাট ফিরোজ শাহ তুঘলকের শাসনামলে দিল্লির জৌনপুর থেকে ইসলাম প্রচারের লক্ষ্যে এ অঞ্চলে আগমন করেন সাধক হজরত খানজাহান (রহ.)। তিনি খলিফাতাবাদ (বর্তমান বাগেরহাট) রাজ্যের রাজধানীতে এটি নির্মাণ করেন। ঐতিহাসিক গবেষক ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মতে, পঞ্চদশ শতাব্দীতে নির্মিত আজকের এ মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণে লেগেছিল ১০-১২ বছর। এ মসজিদের স্থাপত্যকলার সঙ্গে মধ্য এশিয়ার তুঘলক (তুরস্ক) স্থাপত্যশৈলীর মিল রয়েছে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

অনন্য উচ্চতায় ষাটগম্বুজসহ বেশকিছু প্রাচীন মসজিদ থাকায় ১৯৮৫ সালে বাগেরহাটকে ঐতিহাসিক মসজিদের শহর হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করে জাতিসংঘের শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইউনেস্কো।

ষাটগম্বুজ মসজিদের নামকরণের সঠিক ইতিহাস নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ঐতিহাসিকদের মতে, সংস্কৃত শব্দ সাত ও ফারসি শব্দ ছাদ-এর ওপর গম্বুজ থাকায় এটি ছাদগম্বুজ থেকে ষাটগম্বুজ হয়েছে। আবার কারো মতে, মসজিদের অভ্যন্তরে ছয়টি সারিতে ১০টি করে মোট ৬০টি পাথরের খাম্বার ওপর মসজিদের ছাদ নির্মাণ করা হয়েছে বলে এর নাম হয়েছে ষাটগম্বুজ। কারো মতে, মসজিদটির ছাদ সমতল নয়। এটি গম্বুজ আকৃতির। সেই থেকে মসজিদটি ছাদগম্বুজ নামে পরিচিতি লাভ করে। পরে কথ্যরূপে, ‘ষাটগম্বুজ, নাম হয়েছে। জনশ্রুতি আছে, হজরত খানজাহান (রহ.) ষাটগম্বুজ মসজিদ নির্মাণের জন্য সব পাথর চট্টগ্রাম থেকে এনেছিলেন। আবার কারো মতে পাথরগুলো ভারতের ওড়িশার রাজমহল থেকে অলৌকিক ক্ষমতা বলে জলপথে ভাসিয়ে এনেছিলেন। পুরো মসজিদ তৈরির মূল উপাদান চুন, সুরকি, কালো পাথর ও ছোট ইট। মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে কখন নির্মাণ করেছিলেন সে সম্বন্ধে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।

মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে বাইরের দিকে প্রায় ১৬০ ফুট ও ভেতরের দিকে প্রায় ১৪৩ ফুট লম্বা এবং পূর্ব-পশ্চিমে বাইরের দিকে প্রায় ১০৪ ফুট ও ভেতরের দিকে প্রায় ৮৮ ফুট চওড়া। দেয়ালগুলো প্রায় ৮ দশমিক ৫ ফুট পুরু। ষাটগম্বুজ মসজিদে গম্বুজের সংখ্যা মোট ৮১টি; সাত লাইনে ১১টি করে ৭৭টি ও চার কোনায় চারটি। দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বুরুজটির ভেতর দিয়ে ওপরে বা ছাদে ওঠার সিঁড়ি আছে। এর নাম ‘রওশন কোঠা’। আর উত্তর-পূর্ব কোণের বুরুজটি দিয়েও ওপরে ওঠার সিঁড়ি রয়েছে। এর নাম আন্ধার কোঠা নামে পরিচিত।

ঢাকা থেকে আসা রাবিব নামের এক দর্শনার্থী বলেন, ‘পরিবারসহ ঘুরতে এসেছি ষাটগম্বুজ মসজিদে। অনেকদিন আগে থেকেই ইচ্ছা ছিল, আজ তা পূরণ হলো। মসজিদের ভেতর ঢুকলেই অন্য রকম প্রশান্তি পাওয়া যায়। এ রকম বিশেষ কিছু ঐতিহ্য বাংলাদেশে আছে, যা দেখে মনে তৃপ্তি লাগে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে পুরনো ঐতিহ্যগুলো দেখলে মন ভরে যায়। নারীদেরও নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে। চারদিকের পরিবেশ সত্যিই অসাধারণ।’

ট্যুরিস্ট পুলিশ বাগেরহাট জোনের পরিদর্শক তারেক ফয়সাল ইবনে আজিজ বলেন, ‘সব দর্শনার্থীর নিরাপত্তা ও মসজিদের পবিত্রতায় রক্ষায় ট্যুরিস্ট পুলিশ বাগেরহাট জোন সকাল ৯টা থেকে দুই শিফটে ডিউটি করে থাকে। মাগরিবের নামাজ শেষে যারা মসজিদের ভেতরে থাকেন তাদের বের হতে মাইকিং করে অনুরোধ জানানো হয়।’

বাগেরহাট জাদুঘর কাস্টোডিয়ান মো. যায়েদ জানান, ষাটগম্বুজ মসজিদকে ঘিরে পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা রয়েছে। এ শিল্পকে বিকশিত করতে সরকারিভাবে নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশী-বিদেশী দর্শনার্থীদের আগমনে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
 -সংগৃহীত

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)