Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

ইরানে মার্কিন হামলায় 'যুদ্ধাপরাধের' প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম
ইরানে মার্কিন হামলায় 'যুদ্ধাপরাধের' প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

মিনাবের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার পর নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণে ব্যানার ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ ইরানে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ক্রীড়া কেন্দ্রে মার্কিন সামরিক বাহিনীর জোড়া হামলার ঘটনাকে 'যুদ্ধাপরাধ' হিসেবে চিহ্নিত করেছে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন দল। একই সঙ্গে সম্প্রতি দেশজুড়ে বিক্ষোভ দমনে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ করায় ইরান সরকারের বিরুদ্ধেও 'মানবতাবিরোধী অপরাধে'র অভিযোগ তুলেছেন তারা।

​বৃহস্পতিবার জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে উপস্থাপনের জন্য তৈরিকৃত 'ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন অন ইরান'-এর প্রতিবেদনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া সংঘাতকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ এবং তারও আগে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে ছড়ানো গণঅসন্তোষ দমনে তেহরানের কঠোর ভূমিকা বিশ্লেষণ করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

​মিনাবের প্রাথমিক বিদ্যালয় ট্র্যাজেডি

​জাতিসংঘের তদন্তকারীদের মতে, দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের 'শাজারে তাইয়্যেবা' প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাণঘাতী হামলার নেপথ্যে মার্কিন বাহিনী সরাসরি জড়িত ছিল বলে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় ১২০ জন শিশু শিক্ষার্থীসহ ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান।

​প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, স্কুলটি ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) একটি নৌঘাঁটির কাছাকাছি হলেও এটি কোনো সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল—এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি। মূলত নিজেদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় হালনাগাদ তথ্যের অভাব এবং বেসামরিক স্থাপনার ঝুঁকি উপেক্ষা করে হামলা চালানো চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দেয়, যা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সরাসরি যুদ্ধাপরাধের শামিল।

​এর আগে গত জুনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ফেব্রুয়ারির হামলায় কোনো বালিকা বিদ্যালয়কে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। তবে পেন্টাগনের নিজস্ব প্রাথমিক অভ্যন্তরীণ তদন্তেই এই হামলায় মার্কিন বাহিনীর সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল বলে নিশ্চিত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

​ল্যামার্ডের ক্রীড়া কেন্দ্রে আঘাত

​অনুরূপভাবে ল্যামার্ড শহরের একটি ক্রীড়া কেন্দ্রেও আন্তর্জাতিক সামরিক আইন লঙ্ঘন করে মার্কিন বাহিনী হামলা চালায় বলে জাতিসংঘ মিশন নিশ্চিত করেছে। ওই ঘটনায় নিকটস্থ আবাসিক এলাকা ও আরেকটি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ ২২ জন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হন। যদিও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড গত মার্চে দাবি করেছিল যে, সেদিন ল্যামার্ডে তারা কোনো অভিযান পরিচালনা করেনি।

​উভয়পক্ষের নীরবতা ও জবাবদিহিতা

​রয়টার্স থেকে যোগাযোগ করা হলে জেনেভায় অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান—কোনো দেশের স্থায়ী মিশনই তাৎক্ষণিকভাবে এ নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। অতীতে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের সমস্ত অভিযান আন্তর্জাতিক আইন মেনে পরিচালিত হয় বলে দাবি করলেও পেন্টাগন মিনাব ট্র্যাজেডির বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। অন্যদিকে তেহরান সরকারও তাদের বিরুদ্ধে ওঠা পরিকল্পিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের সব অভিযোগ ধারাবাহিকভাবে অস্বীকার করে আসছে।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)