আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের একটি অত্যাধুনিক এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ইয়েমেনের আকাশসীমায় ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। তাদের দাবি, সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বিমানটি সফলভাবে ধ্বংস করা হয়।
ইরানি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইয়েমেনের মাটিতে অবস্থানরত সৌদি-সমর্থিত ভাড়াটে যোদ্ধাদের ওপর আকাশপথে সহায়তা পাঠানোর সময় যুদ্ধবিমানটিকে নিশানায় পরিণত করা হয়।
তিনি আরও জানান, ভূপাতিত বিমানটির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারে আরও দুটি সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ওই এলাকায় পৌঁছালে ইয়েমেনি বাহিনী তাদের প্রতিহত করে। ফলে বিমান দুটি পিছু হটতে বাধ্য হয়। হুতিদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলা হয়, যেকোনো বহিরাগত শত্রুর হাত থেকে নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে তাদের এই ধরনের প্রতিরক্ষামূলক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
হুতি মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি তাইজ, লাহজ, আল-জাওফ, হাজ্জাহ, মারিব, সাদা ও আল-বায়দাসহ একাধিক প্রদেশে সৌদি জোট ৪৫০টিরও বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় বেশ কিছু বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন বলে তারা দাবি করেন। তবে হুতিদের এই যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবির বিষয়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, হুতি বাহিনীর পক্ষ থেকে মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার পবিত্র আকাশসীমায় প্রবেশ করার আগেই শহরের দক্ষিণ এলাকায় হুতিদের পাঠানো একটি ড্রোন সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ধ্বংস করে দেয়। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে চালানো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর পবিত্র মক্কা নগরীকে লক্ষ্য করে এটি হুতিদের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা বলে উল্লেখ করা হয়। তবে হুতি প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর এই অভিযোগ কঠোরভাবে অস্বীকার করেছেন।