ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
উত্তর কোরিয়ার পর এবার দক্ষিণ কোরিয়া—এশিয়ান গেমসের মঞ্চে এশিয়ার ফুটবল পরাশক্তিদের বিপক্ষে লাল-সবুজের মেয়েদের লড়াইয়ের গল্পটা বড় ব্যবধানে হারের হলেও, ভেতরের ছবিটা ছিল দুই ভিন্ন অর্ধে দুই রূপের। সতর্ক রক্ষণে ম্যাচ শুরু করে বিরতির পর প্রতিপক্ষের ওপর আক্রমণের সাহসী পসরা সাজিয়েছিল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। কিন্তু ঋতুপর্ণা চাকমা কিংবা আনিকা সিদ্দিকীরা গোলের দেখা পাননি। উল্টো সুযোগ বুঝে পিটার বাটলারের শিষ্যদের জালে ছয়বার বল জড়িয়ে ৬-০ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
বৃহস্পতিবার 'এফ' গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলের বড় ধাক্কা খাওয়ার পর এই ম্যাচে একাদশে বড় রদবদল আনেন কোচ পিটার বাটলার; ফেরান অভিজ্ঞ ছয় ফুটবলারকে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৯৪ ধাপ এগিয়ে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার সামনে তাই শুরু থেকেই জমাট রক্ষণ সামলানোর কৌশল নেয় বাংলাদেশ। তবুও প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখতে বেশি সময় লাগেনি। ম্যাচের ১৬ মিনিটে কিম মিন-জির গোলে এগিয়ে যায় দক্ষিণ কোরিয়া। ৩৩ ও ৩৫ মিনিটে রূপনা চাকমার দুর্দান্ত সব সেভ বাংলাদেশকে ব্যবধান আরও বাড়া থেকে রক্ষা করে।
তবে বিরতির ঠিক আগে গতি বাড়ায় দক্ষিণ কোরিয়া। ৪০ মিনিটের পর বাংলাদেশ একটু ওপরে উঠে খেলার চেষ্টা করলে সেই সুযোগ কাজে লাগায় প্রতিপক্ষ। ৪২ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে ইউন সুজংয়ের ক্রস কাজে লাগিয়ে ব্যবধান ২-০ করেন জং দা-বিন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই দেখা যায় এক বদলে যাওয়া বাংলাদেশকে। মনিকা চাকমা ও ঋতুপর্ণারা দেখান মাঝমাঠে বল নিয়ন্ত্রণে রেখে আক্রমণের স্পর্ধা। ৫৬ মিনিটে বক্সে ঢুকেও শট নিতে ব্যর্থ হন বদলি নামা আনিকা সিদ্দিকী। এর দুই মিনিট পর শামসুন্নাহার জুনিয়রের দুর্দান্ত থ্রু থেকে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ পান সেই আনিকাই, কিন্তু তার জোরালো শট কর্নারের বিনিময়ে ব্যর্থ করে দেন কোরিয়ান গোলরক্ষক।
বাংলাদেশ যখন গোল শোধের চেষ্টা করছিল, তখনই নিজেদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার চূড়ান্ত প্রমাণ দেয় দক্ষিণ কোরিয়া। একের পর এক আক্রমণ সাজিয়ে ৬৫ থেকে ৭৯ মিনিটের ব্যবধানেই লাল-সবুজদের জালে আরও তিন গোল জমা করে তারা। ৬৫ মিনিটে চয় ইউরি, ৭৭ মিনিটে জি সুউন এবং ৭৯ মিনিটে ফের চয় ইউরি গোল করলে ৫-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে কো ইউ-জিন শেষ পেরেকটি ঠুকে দলের ৬-০ গোলের জয় সুনিশ্চিত করেন।
পরপর দুই জয়ে এশিয়ান গেমসের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলেছে দক্ষিণ কোরিয়া। অন্যদিকে, টানা দুই হারেও টুর্নামেন্ট থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায়নি বাংলাদেশ। ২১ সেপ্টেম্বর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিয়ানমারকে হারাতে পারলে তৃতীয় সেরা দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন এখনো বেঁচে রয়েছে পিটার বাটলারের দলের।