আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ছবি: এএফপি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপের দিকে ঝুঁকছে কানাডা। যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত বাণিজ্য চাপ ও শুল্ক আরোপের মুখে পড়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ বা একক বাজারের অন্তর্ভুক্ত না হয়েও কীভাবে ইইউর ‘সহযোগী সদস্য’ (অ্যাসোসিয়েট মেম্বার) হওয়া যায়, সেই সম্ভাবনার পথগুলো খতিয়ে দেখছেন তিনি।
এমন একটি নজিরবিহীন কৌশলগত জোট গঠনে নিজের বিশেষ দূতকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় বিকল্পগুলো অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন কার্নি। কানাডা এবং ইউরোপের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মতে, জোটের বাইরের কোনো দেশকে এমন বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার ক্ষেত্রে ইইউ ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে, যা বাস্তবায়ন হলে বিশ্ব ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।
২০২৫ সালের গোড়ার দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে অটোয়ার সম্পর্কের ব্যাপক অবক্ষয় ঘটে। দুই দেশের সীমান্ত বাণিজ্যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের শুল্ক আরোপের ফলে বিশ্বস্ত বন্ধু যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এক প্রকার কোণঠাসা হয়ে পড়ে কানাডা। আর এই পরিস্থিতিই অটোয়াকে ইইউর ২১ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল বাজারের দিকে মুখ ফেরাতে বাধ্য করেছে।
আলোচিত পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে কানাডার জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রতিরক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের মতো কৌশলগত খাতের পণ্য ও সেবা সহজে ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশ করতে পারবে। এমনকি দুই অঞ্চলের কর্মীদের অবাধ চলাচলের পথও উন্মুক্ত হতে পারে। এর পাশাপাশি মহাসাগরের তলদেশে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন, যৌথ ডেটা সেন্টার, আধুনিক স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক নির্মাণ এবং ইউরোপে কানাডীয় জ্বালানি সরবরাহে নতুন পরিকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও উভয় পক্ষ আলোচনা করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী কার্নি নিয়মিত ইউরোপের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ রাখছেন। বিশেষ করে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর পাশাপাশি জার্মানির ফ্রিডরিশ মার্ৎস, ইতালির জর্জিয়া মেলোনি এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে তাঁর ঘন ঘন আলোচনা চলছে। আগামী সপ্তাহে মাখোঁ ও কার্নির মধ্যে নির্ধারিত বৈঠকে ভিসা ছাড়া ইউরোপে বসবাস ও কাজের সুযোগের বিষয়টি অগ্রাধিকার পেতে পারে।
তবে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। এক দশকেরও বেশি সময় আগে স্বাক্ষরিত ইইউ-কানাডা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি নয় বছর আংশিক কার্যকর থাকার পরও জোটের সব সদস্য দেশের পূর্ণ অনুসমর্থন পাননি। ফলে নতুন এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের এক বড় রূপান্তর ঘটাতে পারে বলে মনে করা হলেও, চুক্তি পৌঁছানোর পথটি খুব একটা মসৃণ হবে না।