আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সিলিয়ানা অঞ্চলে আগুনের সূত্রপাত হয়ে প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত কাইরুয়ানের দিকে ছড়িয়ে পড়ে ছবি: আনাদোলু এজেন্সি
নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ ও প্রবল বাতাসের জেরে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে তিউনিসিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় কাইরুয়ান ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সিলিয়ানা প্রদেশে। আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত বসতিপূর্ণ এলাকার কাছাকাছি চলে আসায় জীবন বাঁচাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন শতাধিক পরিবার।
তিউনিসিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘ট্যাপ’-এর তথ্য অনুযায়ী, সিলিয়ানার বারগু পর্বতমালা থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে ঝোড়ো বাতাসের বেগে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে কাইরুয়ানের এল উয়েসলাতিয়া জেলার কাইতুন পর্বত এলাকায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্থানীয় প্রশাসন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে প্রায় ১০০টি পরিবারকে সরিয়ে একটি স্থানীয় বিদ্যালয়ে সাময়িক আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে।
সিলিয়ানার কৃষি উন্নয়নবিষয়ক আঞ্চলিক কমিশনার জামাল আল-ফারচিচি জানান, প্রচণ্ড বাতাসে বুলেমান পাহাড়ের আগুন সীমান্ত পেরিয়ে বারগু জেলার আইন বুসাদিয়া এলাকাতেও আঘাত হেনেছে। সেখান থেকেও বেশ কিছু পরিবারকে উদ্ধার করে নিকটস্থ সামার ক্যাম্প ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
দুর্গম পাহাড়ি ও বনাঞ্চল হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসকে। স্থলভাগের পাশাপাশি আকাশপথেও সমানতালে চলছে অভিযান। আগুন নেভাতে দেশটির সামরিক বাহিনীর দুটি বিশেষ বিমান মোতায়েন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি জাগুয়ান, কাইরুয়ান ও কেফ প্রদেশ থেকে অতিরিক্ত অগ্নিনির্বাপক ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত রোববার আরও ১০টি পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ওই সময় দাবানল ঘিরে তৈরি হওয়া আতঙ্ক ও তীব্র ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়া ১৮ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আবহাওয়া সংক্রান্ত সংস্থা ‘তিউনিসিয়ান অবজারভেটরি অব ওয়েদার অ্যান্ড ক্লাইমেট’ জানিয়েছে, দেশজুড়ে বর্তমানে রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহ চলছে। বিশেষ করে কাইরুয়ানে সর্বোচ্চ ৪৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ ও সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই চরম দাবদাহ এবং অনুকূল শক্তিশালী বাতাসের গতিপ্রকৃতিই দাবানলকে দ্রুত দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ার মূল কারণ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে উদ্ধারকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।