আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশ এবং প্রযুক্তি খাতের অভূতপূর্ব পরিবর্তনের এই সময়ে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলা ১০০ ব্যক্তিত্বের তালিকা প্রকাশ করেছে খ্যাতনামা মার্কিন সাময়িকী টাইম। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এটি সাময়িকীটির চতুর্থ বার্ষিক ‘টাইম১০০ এআই’ তালিকা। বর্তমানে এআইয়ের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নানা প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যারা এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এবং সার্বিক উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন, তাদের সম্মান জানাতেই এই উদ্যোগ।
এবারের তালিকায় এআই খাতের বিশ্বসেরা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী, শীর্ষ গবেষক, তরুণ উদ্যোক্তা, নীতি নির্ধারক, শ্রম অধিকার কর্মী থেকে শুরু করে বিনোদন ও সৃজনশীল জগতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বরা স্থান পেয়েছেন। পুরো তালিকাকে মূল চারটি বিভাগে ভাগ করে এই ১০০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে উপস্থাপন করা হয়েছে— ‘লিডারস’ (নেতৃবৃন্দ), ‘ইনোভেটরস’ (উদ্ভাবক), ‘শেপার্স’ (পথপ্রদর্শক বা রূপকার) এবং ‘থিংকার্স’ (চিন্তাবিদ)।
এআই খাতের নীতিনির্ধারণ ও বাজার পরিচালনার ওপর ভিত্তি করে ‘লিডারস’ বিভাগে আধিপত্য বিস্তার করেছেন প্রযুক্তি বিশ্বের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ। এদের মধ্যে অন্যতম ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যান, প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান ও প্রধান গবেষণা কর্মকর্তা মার্ক চেন। একই বিভাগে জায়গা করে নিয়েছেন স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক, অ্যানথ্রপিকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা দারিও আমোদেই ও ড্যানিয়েলা আমোদেই, আইবিএম-এর চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী অরবিন্দ কৃষ্ণ, গুগল ডিপমাইন্ডের প্রধান এআই প্রস্তুতি কর্মকর্তা লিলা ইব্রাহিম এবং বাইটড্যান্সের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী লিয়াং রুবো।
চলচ্চিত্র ও সঙ্গীতসহ সৃজনশীল শিল্পমাধ্যমে এআইয়ের প্রভাব কতটা গভীর হতে শুরু করেছে, তার প্রতিফলন দেখা গেছে ‘ইনোভেটরস’ বিভাগে। এ বিভাগে স্থান পেয়েছেন বিখ্যাত হলিউড অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা বেন অ্যাফ্লেক। প্রযুক্তিকে শিল্পে রূপ দেওয়ার উদ্ভাবনী কাজের জন্য একই বিভাগে আরও স্থান পেয়েছেন মিউজিক এআই প্ল্যাটফর্ম 'সুনো'-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মিকি শুলম্যান এবং 'তারতেল'-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুসা।
অন্যদিকে, এআইয়ের সামাজিক দায়বদ্ধতা, নৈতিক ব্যবহার ও আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারণী ক্ষেত্র নিয়ে যারা কাজ করছেন, তাদের স্থান দেওয়া হয়েছে ‘শেপার্স’ বিভাগে। আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) মহাসচিব ডোরিন বোগদান-মার্টিন এই বিভাগে অন্যতম প্রধান নাম। বিশ্বের প্রযুক্তিনির্ভর বৈষম্য কমানো এবং এআইয়ের সামগ্রিক উন্নয়নে সব অঞ্চলের মানুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে তিনি নিবেদিতভাবে কাজ করছেন। পাশাপাশি বিনোদন জগতের জনপ্রিয় অভিনেতা ও নির্মাতা জোসেফ গর্ডন-লেভিটও স্থান পেয়েছেন ‘শেপার্স’ বিভাগে। তিনি 'ক্রিয়েটরস কোয়ালিশন অন এআই'-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে এআই প্রযুক্তির নির্মাণ ও ব্যবহারে সাধারণ মানুষের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার এবং শিল্পী ও কলাকুশলীদের সৃজনশীল স্বত্ব সুরক্ষায় সোচ্চার ভূমিকা পালন করছেন।