আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইএসএস আব্রাহাম লিংকন ছবি: উইকিপিডিয়া
দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রসীমায় মোতায়েন থাকা এবং টানা অভিযানের জেরে সৃষ্টি হওয়া তীব্র মানসিক চাপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর ভেতরে নৌসদস্যদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত সাতজন নৌসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। ইরানি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সি ও তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্য সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিল প্রকাণ্ড এই রণতরিটি। তবে অনির্দিষ্টকাল সাগরে ভেসে থাকার কারণে সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ ও অসন্তোষ চরম আকার ধারণ করে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং নৌসদস্যদের মানসিক অবস্থা ও অভিযোগের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধানের এক উচ্চপদস্থ উপদেষ্টা রণতরিটিতে যান। কিন্তু অসন্তোষ প্রকাশ করে উপস্থিত ক্ষুব্ধ সদস্যরা তাকে উদ্দেশ্য করে ভুয়া ধ্বনি ও দুয়োধ্বনি দিতে থাকেন এবং একপর্যায়ে তার দিকে পানির বোতল ছুড়ে মারেন।
এই চরম বিশৃঙ্খলার পরপরই রণতরির কর্মকর্তা ও সদস্যদের দুটি পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তারা ধারালো অস্ত্র ও ছুরি নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালান। এই সহিংস সংঘর্ষের ঘটনাতেই শেষ পর্যন্ত একাধিক প্রাণহানি ও গুরুতর জখমের ঘটনা ঘটে।
বর্তমানে রণতরিটি ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জাহাজটি টানা ২৬৩ দিন ধরে অভিযানে মোতায়েন রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২০৮ দিনই নৌসদস্যদের কোনো প্রকার বিরতি ছাড়াই সাগরে কাটিয়ে দিতে হয়েছে। এই মর্মান্তিক ও নজিরবিহীন হতাহতের ঘটনার পর থেকে রণতরিটির অভ্যন্তরীণ সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত থমথমে ও উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।