আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: এ আই প্রণীত
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করতে প্রায় ৫ লাখ নতুন সেনা মোতায়েনের এক গোপন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দেশটির নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন।
জেলেনস্কি উল্লেখ করেন, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার দুমা নির্বাচন শেষ হওয়া মাত্রই পুতিন এই বিশাল নতুন সৈন্য বাহিনীকে যুদ্ধের ময়দানে নামানোর পদক্ষেপ নেবেন। দেশের অভ্যন্তরে সামাজিক ক্ষোভ ও অসন্তোষ এড়াতে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এই সেনা সংগ্রহের কাজ চালানো হবে। তবে কোনো ধরনের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ছাড়া তাড়াহুড়ো করে এত বিপুলসংখ্যক সেনা সরাসরি রণক্ষেত্রে পাঠিয়ে দিলে যুদ্ধক্ষেত্রে নিহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
অন্যদিকে, রাশিয়ার ভেতরে ইউক্রেনের অব্যাহত হামলাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগ। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করে বলেছেন, এই দীর্ঘমেয়াদি ও ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধ পুতিনকে তার একদম চূড়ান্ত হাতিয়ার বা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারে বাধ্য করতে পারে। পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে বৈঠকেও এই বিষয়ে নিজের গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন তিনি।
যুদ্ধের এই সাম্প্রতিক গতিপ্রকৃতি যে উভয় দেশের বেসামরিক জনগণের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, তার প্রমাণ মিলছে জাতিসংঘের তথ্যেও। সংস্থাটি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশই দূরপাল্লার হামলা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তাতারস্তানে অন্তত ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর জবাবে ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলে পাল্টা রুশ গোলাবর্ষণে আরও পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন।
বর্তমানে উভয় পক্ষ থেকেই চলছে ড্রোন ও বিমান হামলার প্রচণ্ড বর্ষণ। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, তারা এক রাতেই ৪৫৬টি ইউক্রেনীয় ড্রোন সফলভাবে আকাশে ধ্বংস করেছে। বিপরীত দিকে ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রুশ বাহিনী ইউক্রেনের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে এক রাতে ১২৬টি ড্রোন ছুড়েছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি