❒ ‘আবু সাঈদ-আব্দুল্লাহদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলে আবারও জুলাই ফিরে আসবে’: এমপি গোলাম রসুল
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে যশোর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দুই দিনব্যাপী 'জুলাই উৎসব' শুরু হয়েছে। ছবি: ধ্রুব নিউজ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে যশোর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দুই দিনব্যাপী 'জুলাই উৎসব' শুরু হয়েছে। যশোর সংস্কৃতি কেন্দ্রের উদ্যোগে 'লাল জুলাইয়ের সেই উত্তাল দিন, রক্তে নাচুক ঢেউ, বাজাও সে বীণ' স্লোগানকে সামনে রেখে বুধবার বিকেলে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ঐতিহাসিক প্রামাণ্যচিত্র (ডকুমেন্টারি) প্রদর্শনের মাধ্যমে এ উৎসবের সূচনা হয়।

উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদ আব্দুল্লাহর পিতা আব্দুল জব্বার প্রধান উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। যশোর সংস্কৃতি কেন্দ্রের সদস্য সচিব অধ্যাপক আবুল হাশিম রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ও যশোর সংস্কৃতি কেন্দ্রের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক গোলাম রসুল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংসদ গোলাম রসুল বলেন, "২৪-এর গণবিপ্লবে ফ্যাসিবাদ মুক্তকরণ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের জন্য হাজারো তরুণ জীবন দিয়েছিল। কিন্তু মাত্র দুই বছরের মাথায় জাতি যেন সাড়ে ১৫ বছরের সেই চরম নির্যাতন ও নিষ্পেষণের ইতিহাস ভুলে যাচ্ছে। যে বৈষম্যহীন মানবিক ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনে তরুণরা রক্ত দিয়েছিল, আজকে সর্বত্র আবারও সেই দলীয়করণ ও বৈষম্য শুরু হয়েছে।"
সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সরকারি বরাদ্দের বৈষম্য তুলে ধরে তিনি বলেন, "যশোরের রেজিস্টার্ড প্রায় ৫৬টি সাংস্কৃতিক সংগঠন অর্থ বরাদ্দ পেলেও যশোর সংস্কৃতি কেন্দ্র বা ফুলকুঁড়ির মতো শিশু সংগঠনকে এক টাকাও দেওয়া হয়নি। অথচ বিগত সাড়ে ১৫ বছর যারা ফ্যাসিবাদী সরকারকে টিকিয়ে রাখতে কাজ করেছে, সেই উদীচীর মতো সংগঠনকে সরকারি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।"

প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে দলীয়করণের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, "শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এডহক কমিটি গঠন, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির ফল বাতিল করে নিজেদের লোক বসানো এবং সরকারি বরাদ্দের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের এমপিদের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। এভাবে ক্ষমতার দাপট ও দলীয়করণ চালাতে থাকলে ইতিহাস কাউকে ছাড় দেবে না। ফ্যাসিবাদী সরকার ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়নি, কিন্তু ইতিহাস তাদের শিক্ষা দিয়েছে।"
হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে গোলাম রসুল আরও বলেন, "আবু সাঈদ যদি ১৬ জুলাই বুকের ছাতি পেতে না দিতেন, তবে আজকে যারা ক্ষমতায় কিংবা এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন, তারা কেউ এই জায়গায় আসতে পারতেন না। আবু সাঈদের রক্ত ও ত্যাগের অনুভূতি যদি আমরা ভুলে যাই, তবে এ দেশে আবারও জুলাই ফিরে আসবে। তরুণরা আবারও লড়াই করে তাদের অধিকার ছিনিয়ে আনবে।"
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহা. কামরুজ্জামান।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, মাতবব্দীন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান এবং যশোর সরকারি এম এম কলেজের সাবেক ভিপি আব্দুল কাদেরসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।
আয়োজকরা জানান, দুই দিনব্যাপী এ উৎসবে আলোচনা সভা, জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিচারণ, পুরস্কার বিতরণী, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নাটক পরিবেশিত হবে।