Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

পাকিস্তানে পুলিশ স্টেশনে ধর্ষণের অভিযোগ, থানার ৭৮ সদস্যর সবাইকে অব্যহতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট,২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম
পাকিস্তানে পুলিশ স্টেশনে ধর্ষণের অভিযোগ, থানার ৭৮ সদস্যর সবাইকে অব্যহতি

ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

পাকিস্তানের লাহোরে একটি থানা প্রাঙ্গণে মানসিক প্রতিবন্ধী ২০ বছর বয়সী এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। একটি মাত্র অপরাধ ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় ওই থানার সব কর্মকর্তা ও স্টাফ মিলিয়ে মোট ৭৮ জন সদস্যকে একসঙ্গে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। দেশটির আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ইতিহাসে এটি অন্যতম বৃহত্তম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।

​ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ, পুলিশের এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) তাকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে লাহোরের গাজিয়াবাদ থানায় নিয়ে যান এবং দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে আটকে রেখে ধর্ষণ করেন। তরুণীর স্বজনরা জানান, রাস্তা থেকে নিখোঁজ হওয়ার কিছুক্ষণ পর তিনি কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফেরেন এবং থানায় যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা জানান।

​ইতোমধ্যেই অভিযুক্ত ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে ঘটনার দিন থানায় উপস্থিত থেকে কোনো বাধা না দেওয়া এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি না জানানোর অপরাধে গাজিয়াবাদ থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থেকে শুরু করে নিচের সারির কর্মী পর্যন্ত মোট ৭৮ জনকে একযোগে বরখাস্ত করা হয়।

​লাহোরের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (অপারেশনস) ফয়সাল কামরান সংবাদমাধ্যমকে জানান, পুলিশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী থানার ভেতরে কোনো অন্যায় ঘটলে তা প্রতিরোধ করা এবং তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো প্রতিটি পুলিশ সদস্যের দায়িত্ব। তারা সেই দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।

​তিনি বলেন, "কোনো নারী পুলিশ সদস্য সাথে না থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্ত এএসআই কেন একজন তরুণীকে থানায় নিয়ে এলেন, তা নিয়ে উপস্থিত কোনো কর্মকর্তাই প্রশ্ন তোলেননি। আমি পুরো গাজিয়াবাদ থানার ৭৮ জন সদস্যকে বরখাস্ত করেছি। বর্তমানে জেন্ডার ক্রাইম উইং পুরো মামলাটি তদন্ত করছে। জড়িতদের স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হবে এবং নগরীর প্রতিটি থানার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হবে।"

​এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই পুরো পাকিস্তানে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, সামাজিক কুসংস্কার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি আস্থা না থাকায় সে দেশে যৌন সহিংসতার শিকার নারীরা মামলা করতে চান না। পুলিশের এ ধরনের অপকর্মের কারণে সাধারণ মানুষের অনাস্থা আরও জোরালো হচ্ছে।

​প্রখ্যাত নারী অধিকারকর্মী ফারজানা বারী ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, "এটি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক একটি ঘটনা, যা পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরে বহুদিনের জবাবদিহিতার অভাবকেই প্রকাশ করে। ক্ষমতার অপব্যবহারের এটি একটি চরম উদাহরণ। পুলিশের বিরুদ্ধে এমন অপরাধ ও হেফাজতে ধর্ষণের অভিযোগ নতুন নয়।"

​তিনি আরও বলেন, "নব্বইয়ের দশকে আমরা নারী থানার জন্য আন্দোলন করেছিলাম, কারণ পুরুষ কর্মকর্তাদের কাছে নারীরা নিরাপদ বোধ করতেন না। পুলিশ এখনও নারীদের সুরক্ষা দিতে সফল হতে পারেনি, তবে এই ঘটনাটি যেভাবে প্রকাশ পেয়েছে ও রিপোর্ট হয়েছে, তাতে বিচারের একটি আশার আলো দেখা যাচ্ছে।"

​পাকিস্তানে সাম্প্রতিক সময়ে আইনগত কিছু পরিবর্তন আনা হলেও ধর্ষণের ঘটনায় সাজা পাওয়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে কম। টেকসই সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (এসএসডিও)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটিতে ধর্ষণের ঘটনায় সাজা পাওয়ার হার ছিল মাত্র ০.৫ শতাংশ। আর সরকারি তথ্যমতে, গত ২০২৫ সালে এই পাঞ্জাব প্রদেশে সেই হার ছিল মাত্র ৪ শতাংশ। দুর্বল তদন্ত প্রক্রিয়া, তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের গাফিলতি, দীর্ঘসূত্রতা এবং সামাজিক লজ্জার ভয়ই সাজা না হওয়ার প্রধান কারণ বলে চিহ্নিত করেছেন অধিকারকর্মীরা।

​পুলিশের নিজস্ব উপাত্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম অর্ধে পাঞ্জাব প্রদেশে নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধের সংখ্যা ২০,০০০ ছাড়িয়ে গেছে, যা গত ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। অধিকারকর্মীদের মতে, রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা ও কাঠামোগত সংস্কার না আনলে সাধারণ মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)