নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের নদী ও খালগুলোর অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং খনন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে জেলা নদী রক্ষা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরের নদী ও খালগুলোর অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং খনন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে জেলা নদী রক্ষা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় নদী ও খাল দখলমুক্ত করার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। তিনি নদী দখলদারদের সতর্ক করে বলেন, নদী দখলের কোনো সুযোগ নেই। সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। শহর থেকে শুরু করে বসুন্দিয়া পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। সকল নদীর সীমানা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আইনি জটিলতা এড়ানোর বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী সিএস রেকর্ডকে ভিত্তি করেই নদী চিহ্নিত করা হচ্ছে। উচ্ছেদ অভিযান যাতে কোনো আইনি ফাঁকফোকরে বা মামলার কারণে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে লক্ষ্যে প্রশাসনিকভাবে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া পৌরসভা এলাকার নদী ও খাল দখলমুক্ত করতে একটি বিশেষ উপ-কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কমিটি দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে বিস্তারিত রিপোর্ট প্রদান করবে, যার ভিত্তিতে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
সভায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জি জানান, বোর্ডের আওতাধীন ২১টি খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে ১১টির কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এছাড়া ল্যাব এইডের পাশে নির্মাণাধীন ভবনের ক্ষেত্রে সরেজমিন উপস্থিত থেকে নদীর সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বর্তমানে নদী, খাল ও জলাশয় সুরক্ষায় সমন্বিত কার্যক্রম চলছে। চলমান প্রকল্পের আওতায় মোট ৩১টি খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬২.১১ কিলোমিটার, যার মধ্যে ৬১.১৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যে ৯টি খালের খনন কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে বাপাউবো ৮টি এবং এলজিইডি একটি খাল খনন সম্পন্ন করেছে। এছাড়া কেশবপুর উপজেলার আপারভদ্রা নদীতে চিহ্নিত ৮৮টি অবৈধ স্থাপনার মধ্যে ৫০টি ইতিমধ্যে উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং ৫.৯৮ একর জমি দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কমলেশ মজুমদারসহ জেলা নদী রক্ষা কমিটির সদস্য, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা যশোরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নদী ও খালগুলোকে দখল ও দূষণমুক্ত করতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।