এম জামান
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সেই বৃদ্ধা। ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোর সদর উপজেলার খাজুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকার মহাসড়কের পাশে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা সেই দৃষ্টিহীন বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির পর বর্তমানে তিনি সমাজসেবা বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। একটু সুস্থ হলেই তার স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবে প্রশাসন।
আরো পড়ুন : ৭ দিন ধরে রাস্তার পাশে এক অন্ধ বৃদ্ধা, কে এই জননী
গত ২৫ জুন যশোর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহরিয়ার হক এবং উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত টিম ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করায়। আজ চিকিৎসার তৃতীয় দিনে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত ওষুধ ও যত্নের ফলে তার শারীরিক দুর্বলতা কিছুটা কেটেছে। সমাজসেবা বিভাগের পক্ষ থেকে তার সার্বক্ষণিক দেখাশোনার জন্য একজনকে নিয়োজিত রাখা হয়েছে, যিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
আরো পড়ুন: রাস্তার পাশে ফেলে যাওয়া সেই অন্ধ বৃদ্ধাকে উদ্ধার করলেন জেলা প্রশাসক
এর আগে গত ২৪ জুন ধ্রুব নিউজে এক মানবিক প্রতিবেদনে ওই বৃদ্ধার করুণ জীবনচিত্র তুলে ধরা হয়। রজনীগন্ধা ১০ তলা ভবনের সংলগ্ন এলাকায় টানা সাত দিন ধরে পড়ে থাকা এই অজ্ঞাত বৃদ্ধার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পরপরই তাকে উদ্ধার করে জেলা প্রশাসন।
বৃদ্ধার বর্তমান অবস্থা ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে যশোর সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বলেন,
"হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলে প্রথমে তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হবে। পরিচয় পাওয়া না গেলে সরকারি-বেসরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান বা উপযুক্ত সংস্থার মাধ্যমে তার পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।"
একই বিষয়ে যশোর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহরিয়ার হক বলেন, "সংবাদ প্রকাশের পর আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম। বর্তমানে তার সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তিনি একটু সুস্থ হলেই পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। পরিবারের সন্ধান পাওয়া গেলে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে, অন্যথায় কোনো এনজিও বা উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিরাপদ ও মানবিক পরিবেশে তার থাকার ব্যবস্থা করা হবে।"
এদিকে প্রশাসনের এই ধারাবাহিক মানবিক নজরদারিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা জানান, গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং প্রশাসনের দ্রুত সাড়ার কারণে একটি অসহায় প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। চিকিৎসা শেষে ওই বৃদ্ধার স্থায়ী পুনর্বাসনও দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।