ধ্রুব ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে হত্যাকাণ্ডের শিকার মা ও তিন মেয়েকে কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় নিজ গ্রামে পাশাপাশি কবরে সমাহিত করা হয়েছে।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে দ্বিতীয় দফা জানাজা শেষে পাশাপাশি চারটি কবরে তাদের দাফন সম্পন্ন হয় বলে জানান হোমনা থানার ওসি টমাস বড়ুয়া।
এর আগে রাত সাড়ে ৯টায় শাহীনুর বেগম, তার মেয়ে সায়মা আক্তার, নাফিসা আক্তার ইরা ও ফাতেমা আক্তার শিফার লাশ উপজেলার লটিয়া গ্রামে পৌঁছায়। এ সময় স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে চারপাশ।
পরে জানাজা শেষে শাহীনুর বেগমের স্বামী প্রয়াত মো. কামালের বাড়ির পাশে তাদের দাফন হয় বলে জানান ওসি টমাস বড়ুয়া।
দাফনে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুর রহমান মোল্লা বলেন, “এমন দুঃসহ ঘটনার মুখোমুখি আমরা আর কখনো হইনি। যারা নিহত হয়েছেন তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করি এবং হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করি।”
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীর পাড় সড়কের আমির হোসেন মাস্টারের পাঁচ তলা ভবনের নিচতলার বাসায় ঢুকে শাহীনুর বেগম (৩৮), তার মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) ও ছোট মেয়ে ফাতেমা আক্তার শিফাকে (১০) কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
তাদের চিৎকার শুনে জানালা দিয়ে বাসায় এক লোককে দেখতে পেয়ে স্থানীয় এক নারী বাহির থেকে বাসার গেইট বন্ধ করে দেন। এতে সেখানে অন্তর মজুমদার নামের এক ফল ব্যবসায়ী ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন।
পরে ওই নারী আশাপাশের লোকজনকে ডেকে নিয়ে বাসায় ঢুকে চারজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় অন্তর বাসার ছাদে উঠে পার্শ্ববর্তী বাসার ছাদ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে গণপিটুনি দেন। পরে তিনিও মারা যান।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় দেড় বছর একই ভবনের পাঁচ তলায় ভাড়া থাকতেন অন্তর। প্রায় আট মাস আগে তিনি বাসা ছেড়ে চলে যায়। অন্তর জানতো বাসা ভাড়ার টাকা শাহীনুরের কাছে জমা হয় এবং তার কিছু স্বর্ণালংকারও ছিল। ডাকাতির উদ্দেশে অন্তর ঘটনাটি ঘটিয়েছেন বলে ধারণা স্বজনদের।
শাহীনুরের ছোট ভাই ছানা উল্লাহ বলেন, “আমার বোনের স্বর্ণালংকার ছিল। সেগুলো লুট করতেই ঘটনাটি ঘটিয়েছে। ঘটনাটির মূল ঘটনা উদঘাটনসহ অন্য কেউ জড়িত আছে কি-না তা বের করার দাবি জানাচ্ছি।”
শাহীনুরের ছেলে জুনাইদ ইসলাম সিফাত বলেন, “ঘটনাটি টাকা বা স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যেও হতে পারে। কারণ বাড়িওয়ালা না থাকলে আম্মুর কাছে সবাই ভাড়া দিত। পরে বাড়িওয়ালা নিয়ে যেত। এ ছাড়া বাসার দায়িত্বে ছিল আম্মু। বাসা ছেড়ে এখান থেকে যাওয়ার পর অন্তরকে আর কখনো আসতে দেখিনি।”
রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদ বলেন, “একটি লোকের দ্বারা চারজনকে খুন করা সম্ভব কি-না, এটা নিয়ে আমরা সবাই ধোঁয়াশার মধ্যে আছি। খুনের সঙ্গে আর কেউ আছে কি-না বা কি কারণে করা হয়েছে, আশা করি তদন্ত শেষে প্রশাসন আমাদেরকে জানাবে।”