ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: রয়টার্স
ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬-এর গ্রুপ স্টেজে ফুটবলপ্রেমীরা উপভোগ করল আরো এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর ম্যাচ। গ্রুপ ‘জি’-এর এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে শক্তিশালী বেলজিয়ামের মুখোমুখি হয়েছিল এশিয়ান পরাশক্তি ইরান। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বেলজিয়াম একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে ইরানের ডিফেন্সকে তছনছ করার চেষ্টা করলেও, শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে দুই দলকে। পুরো ম্যাচে বেলজিয়ামের একচেটিয়া আধিপত্য, আক্রমণভাগের ঝড় আর ম্যাচের শেষভাগে দেখা পাওয়া রেড কার্ড—সব মিলিয়ে ম্যাচটিতে নাটকীয়তার কোনো কমতি ছিল না, তবে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি কোনো পক্ষই।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হোল্ডে নিয়ে চড়াও হয়ে খেলতে থাকে বেলজিয়াম। মাঝমাঠের দখল নিয়ে তারা ক্রমাগত ইরানের রক্ষণভাগে একের পর এক আক্রমণ রচনা করতে থাকে। ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যায় বেলজিয়াম কতটা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে। পুরো ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে বেলজিয়ামের বল পজেশন ছিল রেকর্ড ৬৮ শতাংশ। তারা নিজেদের মধ্যে ছোট ছোট পাসে নিখুঁত বিল্ড-আপের মাধ্যমে মোট ৫৭৫টি পাস খেলেছে, যার পাস অ্যাকুরেসি ছিল ৮৮ শতাংশ। আক্রমণভাগের এই ধারাল পারফরম্যান্সের কারণে তারা প্রতিপক্ষের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে মোট ২২টি শটস নেয়। তবে ইরানের গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডারদের কঠোর প্রাচীর ভেদ করে এর মধ্যে মাত্র ৭টি শটস অন টার্গেট রাখতে সক্ষম হয় তারা। ৪টি কর্নার আদায় করেও ডেড-বল সিচুয়েশন থেকে ফায়দা তুলতে পারেনি বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডরা। ৩ বার অফসাইডের ফাঁদে পড়ে তাদের বেশ কিছু সম্ভাবনা নষ্ট হয়।
অন্যদিকে, ইরান পুরো ম্যাচে কেবল ডিফেন্সিভ ট্যাকটিক্স বা রক্ষণাত্মক কৌশলের ওপর ভর করে খেলেছে। মাত্র ৩২ শতাংশ বল পজেশন নিয়েও তারা কাউন্টার অ্যাটাক বা পাল্টা আক্রমণে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে গেছে। ইরানের আক্রমণভাগ বেলজিয়ামের ডিফেন্সকে ফাঁকি দিয়ে মোট ৭টি শটস নিতে পেরেছিল, যার মধ্যে ৩টি শটস অন টার্গেট ছিল। তবে বেলজিয়ামের আক্রমণ রুখতে গিয়ে ইরানকে বেশ ফিজিক্যাল ফুটবল খেলতে হয়েছে, যার প্রমাণ মেলে তাদের করা ৯টি ফাউলের মাধ্যমে। ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গিয়ে ইরানের খেলোয়াড়রা ৪ বার অফসাইডের পজিশনে ধরা পড়েন। ম্যাচ জুড়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যেই চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল, যার ফলে রেফারিকে দুই দলকেই ১টি করে ইয়েলো কার্ড বা হলুদ কার্ড দেখিয়ে সতর্ক করতে হয়েছে।
এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট আসে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে। ম্যাচের ৬৭ মিনিটে বেলজিয়ামের তারকা খেলোয়াড় এন এনগয় একটি মারাত্মক ফাউল করে বসেন, যার ফলে রেফারি তাকে সরাসরি রেড কার্ড বা লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর বেলজিয়ামের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি হয়। একজন খেলোয়াড় কম নিয়ে খেলার কারণে বেলজিয়াম কিছুটা রক্ষণাত্মক হতে বাধ্য হলেও তারা গোল হজম করা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পেরেছে। শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত ১০ জনের বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ইরান গোল করার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও ডেডলক ভাঙতে পারেনি।
এই ড্রয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। ম্যাচ শেষে মাঠের লড়াইয়ে ইরান ১ পয়েন্ট পেয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে, একের পর এক আক্রমণ করেও গোল না পাওয়ার হতাশায় পুড়তে হওয়া বেলজিয়ামকে টেবিলের তৃতীয় স্থানেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। পুরো ম্যাচে ফিনিশিংয়ের অভাব আর ইরানের লড়াকু মানসিকতার কারণেই শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হলো এই দুই ফুটবল পরাশক্তিকে।