ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: রয়টার্স
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ ‘এইচ’-এর ম্যাচে আজ মাঠে নেমেছিল উরুগুয়ে এবং কেপ ভার্দে। কাগজে-কলমে উরুগুয়ে ফেবারিট থাকলেও, মাঠের লড়াইয়ে তাদের ছেড়ে কথা বলেনি কেপ ভার্দে। দুই দলের ফুটবলারদের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ম্যাচটি ২-২ গোলের সমতায় শেষ হয়েছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বল পজেশন বা বল নিয়ন্ত্রণে আধিপত্য দেখায় উরুগুয়ে। তবে ম্যাচের প্রথম চমকটি দেয় কেপ ভার্দে। ম্যাচের ২১তম মিনিটে কেভিন পিনা গোল করে কেপ ভার্দেকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। পিছিয়ে পড়ে গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে উরুগুয়ে। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ দিকে এসে ম্যাচের রঙ বদলাতে শুরু করে। ৪৪তম মিনিটে ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাউজো গোল করে উরুগুয়েকে সমতায় ফেরান (১-১)। এর ঠিক পরেই, প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে (৪৫+৬ মিনিটে) অগাস্টিন ক্যানোবিও আরও একটি গোল করলে ২-১ ব্যবধানে লিড নিয়ে বিরতিতে যায় উরুগুয়ে।
এক গোল পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বের হয় কেপ ভার্দে। উরুগুয়ের ডিফেন্স বা রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রেখে ম্যাচের ৬১তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় তারা। হেলিও ভ্যারেলা গোল করে দলকে ২-২ সমতায় ফেরান। ম্যাচের বাকি সময়ে আর কোনো দলই গোলের দেখা না পাওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয় দুই দলকে। এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে উরুগুয়ে এবং তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে কেপ ভার্দে।
ম্যাচের স্ট্যাটস বা পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, ৬৬ শতাংশ বল পজেশন নিজেদের অধীনে রেখেছিল উরুগুয়ে। তারা মোট ৪৬৬টি পাস খেলেছে, যার পাস অ্যাকুরেসি ছিল ৮৭ শতাংশ। উরুগুয়ে মোট শটস নিয়েছে ১৬টি, যার মধ্যে শটস অন টার্গেট ছিল মাত্র ২টি এবং দুটিই গোলে রূপান্তরিত হয়েছে। এছাড়া তারা ১১টি কর্নার আদায় করতে পেরেছে।
অন্যদিকে, মাত্র ৩৪ শতাংশ বল পজেশন নিয়েও দারুণ কাউন্টার অ্যাটাক বা পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে কেপ ভার্দে। তারা সর্বমোট ১১টি শটস নেয়, যার মধ্যে শটস অন টার্গেট ছিল ৪টি। তারা ম্যাচজুড়ে ২৭৭টি পাস খেলেছে এবং কর্নার পেয়েছে ৪টি। পুরো ম্যাচে দুই দলের খেলোয়াড়রাই সমান ২টি করে ইয়োলো কার্ড বা হলুদ কার্ড দেখলেও কোনো রেড কার্ড বা লাল কার্ডের ঘটনা ঘটেনি। তবে ফাউলের দিক থেকে এগিয়ে ছিল উরুগুয়ে, তারা মোট ১১টি ফাউল করেছে যেখানে কেপ ভার্দে করেছে মাত্র ৪টি।