নিজস্ব প্রতিবেদক
সাজাপ্রাপ্ত ৫ আসামী ছবি: ধ্রুব নিউজ
আদালতের বারান্দায় মামলার বাদীকে মারপিট করায় একই মামলার ৫ আসামিকে দুই দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং তিন নারীসহ ৪ জনকে ১শ’ টাকা করে জরিমানার আদেশ দিয়েছেন যশোরের একটি আদালত। মঙ্গলবার (১৬ জুন) তাৎক্ষণিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বিচারিক কার্য শেষে এই আদেশ দেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল।
আদালতের এই আদেশ নিশ্চিত করেছেন কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. এমদাদুল হক।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলো— বাঘারপাড়া উপজেলার দক্ষিণ শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত আহম্মদ তরফদারের ছেলে আব্দুল ওহাব, হাবিবুল্লাহ, মৃত বদিয়ার মোল্যার ছেলে আব্দুর রাজ্জাক, আলম মোল্যা ও আজিজ মোল্যা।
এ ছাড়া ১শ' টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে একই গ্রামের মৃত আহম্মদ তরফদারের ছেলে বৃদ্ধ মশিউর রহমান, নুর আলী শিকদারের স্ত্রী বেগম, তার মেয়ে নুর জাহান এবং জামশেদ শেখের স্ত্রী তহুরন নেছাকে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দক্ষিণ শ্রীরামপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনায় মতিয়ার রহমান বাদী হয়ে ওই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি ১৩ জনকেই অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
পরবর্তীতে মামলাটি বিচারের জন্য সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতে বদলি করা হয়। আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) এই মামলার চার্জ (অভিযোগ) গঠনের দিন ধার্য ছিল। নির্ধারিত দিনে মামলার সকল আসামি এবং বাদী মতিয়ার রহমান আদালতে উপস্থিত হন।
তবে মামলার চার্জ শুনানির একপর্যায়ে আদালতের ৩য় তলার সিঁড়ির সামনে আসামিরা আকস্মিক মামলার বাদী মতিয়ার রহমানকে ধরে মারপিট শুরু করে। এ সময় মতিয়ার রহমান আসামিদের হাত থেকে কোনোমতে পালিয়ে সরাসরি বিচারকের এজলাসে গিয়ে অভিযোগ করেন। এর মধ্যেই মারপিটে জড়িত ৯ আসামিকে ধরে সাধারণ জনগণ আদালত পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় বিচারক সঞ্জয় পাল অভিযোগের তাৎক্ষণিক তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য কোর্ট পুলিশ পরিদর্শককে নির্দেশ দেন। আদেশ পেয়ে পুলিশ দ্রুত তদন্ত শেষ করে আটক ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে।
এরপর বিচারক ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষীদের বক্তব্য পর্যালোচনা শেষে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ৫ আসামিকে ২ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সাথে বৃদ্ধ মশিউর রহমানসহ তিন নারীকে ১শ’ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে ২ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, সাজা ঘোষণার পর বৃদ্ধ মশিউর রহমানসহ তিন নারী জরিমানার টাকা পরিশোধ করে মুক্তি পেয়েছেন। আর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অপর ৫ আসামিকে কড়া নিরাপত্তায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।