আন্তর্জাতিক ডেস্ক
গ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দিল্লির ‘ফ্লারিশ স্টে বিএনবি’ হোটেল। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির মালভিয়া নগরের বেড-এন্ড-ব্রেকফাস্ট নামের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২১ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে এই আগুন লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বিপর্যয়ের পর দিল্লি সরকার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, তবে এটি নিশ্চিত করা গেছে, বুধবার (৩ জুন) সকালের এই অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৮ জন বিদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং এদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন। তবে কোন কোন দেশের কতজন নাগরিক নিহত হয়েছেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো জানানো হয়নি। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।
অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনার পর, দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর রাজধানী জুড়ে হোটেল এবং অন্যান্য ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করার জন্য মাসব্যাপী অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন।
বুধবারের অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৮ জন বিদেশী নাগরিক নিহত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহত ভুক্তভোগীরা আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান এবং অন্য আরও কয়েকটি দেশের নাগরিক ছিলেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে।
'ফ্লারিশ স্টে বিএনবি' নামের সেই হোটেলটির কোনো অগ্নিনিরাপত্তা ছাড়পত্র ছিল না বলে জানা গেছে। সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভবনটি প্রাথমিকভাবে কেবল একতলা বিশিষ্ট ভবন ছিল, যখন অগ্নিনিরাপত্তা ছাড়পত্রের প্রয়োজন হতো না। তবে, এর ছয় থেকে সাত বছর পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই আরও কয়েকটি তলা নির্মাণ করা হয়। এছাড়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি নীতিমালার অধীনে এই বিএনবি হোটেলটির মাত্র ছয়টি রুমের অনুমতি ছিল, কিন্তু তারা ২৪টি রুম পরিচালনা করছিল।
এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-এর অবহেলাজনিত নরহত্যা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ধারায় একটি এফআইআর দায়ের করেছে। এছাড়া পিটিআই জানিয়েছে, হোটেল কর্তৃপক্ষ এবং লাইসেন্সধারীর খোঁজ চালানো হচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, ভবনের মালিক হিসেবে লবকেশ বাজাজকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং পর্যটন বিভাগের লাইসেন্সটি জয় মিশ্রের নামে ইস্যু করা হয়েছিল।
দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর তরণজিৎ সিং সান্ধু বুধবার রাজধানীর সমস্ত হোটেল, নার্সিং হোম, কোচিং ইনস্টিটিউট, রেস্তোরাঁ এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করার জন্য মাসব্যাপী একটি অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। সান্ধু সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সাথে একটি বৈঠক করেছেন এবং ৪ জুন থেকে অগ্নিনিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে মেনে চলা হচ্ছে কি না তা পরীক্ষা করতে এই অভিযান শুরু করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত মালভিয়া নগরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী দক্ষিণ দিল্লি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছ থেকে মালভিয়া নগরের এই অগ্নিকাণ্ডের মর্মান্তিক ঘটনা সম্পর্কে একটি প্রতিবেদনও তলব করেছেন।