ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি
আটক কবিরাজ আব্দুর রহমান ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরের ঝিকরগাছায় বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার একমাত্র আসামি কথিত কবিরাজ আব্দুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ঝিকরগাছা থানায় নিয়ে আসা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে ঝিকরগাছা থানার এসআই পলাশ দাস ও এসআই তাপস কুমার রায়ের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল টানা দুই দিন অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহজালাল আলম জানান, বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী তরুণী ধর্ষণ ও সন্তান প্রসবের বিষয়টি জানার পর তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে গত ১২ মে সরাসরি ভুক্তভোগীর বাড়িতে যান। প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পরই মূলত পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত আব্দুর রহমান বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশের তদন্তে জানা যায়, ১২ মে রাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি নাভারনে অবস্থান নেয় এবং পরদিন সকালে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় তার জামাইবাড়িতে গিয়ে আত্মগোপন করে। এ সময় সে নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে নতুন একটি বাটন ফোন এবং জামাইয়ের সিম ব্যবহার করছিল। এছাড়া সে সৌদি আরবে অবস্থানরত ছেলের কাছে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। ওসি শাহজালাল আলম আরও বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং আদালতে আসামির ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করা হবে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে কোনো একসময় পান খাওয়ানো ও টাকার প্রলোভন দেখিয়ে কথিত কবিরাজ আব্দুর রহমান নিজ বাড়িতে ওই বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী তরুণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। কয়েক মাস পর তরুণীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি গর্ভবতী বলে জানতে পারেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তরুণী পরিবারের সদস্যদের জানান যে "হুজুর" তার সঙ্গে খারাপ কাজ করেছে। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে শালিস হলেও প্রভাবশালীরা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে গর্ভপাতের পরামর্শ দেয় এবং মামলা না করতে ভয়ভীতি দেখায়। পরবর্তীতে গত ১৯ মার্চ ওই তরুণী একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে ঝিকরগাছার ঐতিহ্যবাহী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন "সেবা"র প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মাস্টার আশরাফুজ্জামান বাবুসহ সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধিদল ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করেন এবং বিষয়টি গণমাধ্যমে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তারা ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জের সঙ্গে কথা বলে ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য আইনি সহায়তা চান। এরই প্রেক্ষিতে ঝিকরগাছা থানা পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা গ্রহণ করে দ্রুত তদন্ত শুরু করে। এদিকে মূল আসামি গ্রেফতারের খবরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা। তারা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তারা চান নিষ্পাপ শিশুটি তার পিতার পরিচয় পাক এবং এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হোক।