❒ প্রধানমন্ত্রীর যশোর সফরে আড়াল হচ্ছে জনদুর্ভোগ
বিশেষ প্রতিবেদক
ছবি: এআই প্রণীত ফটোগ্রাফি
যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কে দীর্ঘ ৫ বছরের পুঞ্জীভূত জনদুর্ভোগ রাতারাতি ঢেকে ফেলা হয়েছে। আগামী ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যশোর সফরকে কেন্দ্র করে সড়কের কঙ্কালসার দশা আড়াল করতে ইটের সলিংয়ের ওপর তড়িঘড়ি পিচের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফ্যাসিস্ট সরকারের তথাকথিত উন্নয়ন চিত্র তা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেখতে দেওয়া হচ্ছে না।
আগামী সোমবার (২৭ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোর বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। সেখান থেকে তিনি যশোর-বেনপোল সড়ক দিয়ে শার্শার ঐতিহাসিক উলাশী-যদুনাথপুর খাল পুনর্খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করতে যাবেন। পরবর্তীতে তিনি যশোর শহরের চাঁচড়ায় অবস্থিত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫০০ শয্যার নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এ ছাড়াও তার যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন ও ঈদগাহ ময়দানে জনসভায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
যশোরবাসী মনে করেন, তারেক রহমানের এই সফর কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দীর্ঘ ১৭ বছরের বঞ্চনা ও অবহেলা থেকে মুক্তির পথ খোঁজা। তবে এই মুহূর্তে যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়ক এবং যশোর-বেনপোল সড়কের জরাজীর্ণ অবস্থা কালো পিচে ঢেকে দেওয়াকে সাবেক সরকারের দুর্নীতি ও ব্যর্থতা আড়ালের কৌশল হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
আরো পড়ুন-
যশোরে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে চৌগাছায় প্রস্তুতিসভা
২০২০ সালে শুরু হওয়া যশোর-ঝিনাইদহ ৬ লেন প্রকল্পের কাজ গত পাঁচ বছরে মাত্র ২ শতাংশ শেষ হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই মহাসড়কটি দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে ভরা থাকায় ৩ স্তরের ইটের সলিং (হেয়ারিং বোন) দিয়ে কোনোমতে যান চলাচল সচল রাখা হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সফরের খবরে রাতারাতি সেই ইটের ওপর পাতলা পিচ ঢালাই করা হচ্ছে।
ট্রাকচালক আব্দুস সোবহান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পাঁচ বছর এক ঘণ্টার পথ আড়াই ঘণ্টায় পাড়ি দিয়েছি। বৃষ্টি হলেই এখানে মরণফাঁদ তৈরি হতো। এখন প্রধানমন্ত্রী আসছেন বলে রাতারাতি রাস্তা কালো করা হচ্ছে। আমরা চাই তিনি সড়কের কঙ্কালসার দশাটি নিজের চোখে দেখুন।’
বাসচালক ওয়াহিদুজ্জামান রয়েল বলেন, ‘সড়ক উন্নয়নের এই নাটক বন্ধ হওয়া দরকার। লোকদেখানো এই সংস্কার কয়েকদিনও টিকবে না।’
আরো পড়ুন-
যশোরকে সিটি কর্পোরেশন ঘোষণার দাবিতে মানববন্ধন
যশোরের স্থানীয় নাগরিক সমাজ মনে করেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর সড়ক ব্যবস্থার প্রকৃত স্বরূপ প্রধানমন্ত্রীর সামনে আসা জরুরি। কারণ, বাস্তব অবস্থা আড়াল করলে যশোরের বর্তমান সড়ক ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি স্বচ্ছ ধারণা পাবেন না। যশোরবাসী চায়, প্রধানমন্ত্রী কোনো আস্তরণ ছাড়াই বাস্তব অবস্থার ওপর ভিত্তি করে দ্রুত এই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর সংস্কার ও ছয় লেন প্রকল্পের কাজ দ্রুততম সময়ে সমাপ্ত করার নির্দেশ দেবেন।
শুধু মহাসড়ক নয় শহরের ওইসব সড়কও সংস্কার করা হচ্ছে যেগুলো দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সাথে সকল সড়কের ফুটপাত দখল মুক্ত হয়েছে। সড়কের পাশে বছরের পরা বছর জমে থাকা নির্মাণ সামগ্রীসহ অন্যান্য ব্যক্তিগত উপকরণও সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এসবের মধ্যে জনগণের নিত্যদুর্ভোগ আড়ালে চলে গেছে। এথন প্রধানমন্ত্রী দেখবেন একটি পরিচ্ছণ্ন শহর।