❒ ঝিনাইদহে জামায়াতের ওয়ার্ড সভাপতি সম্মেলন
রফিক মন্ডল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
শুক্রবার দুপুরে ঝিনাইদহ শহরে একটি পার্কের মিলনায়তনে জেলা জামায়াত আয়োজিত ‘ওয়ার্ড সভাপতি সম্মেলন। ছবি: ধ্রুব নিউজ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “সরকার পুরনো কর্তৃত্ববাদী শাসনের পথে ফিরতে চাচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলকে হায়েনার মতো লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দেশের জনগণ আর কখনো সরকারকে কর্তৃত্ববাদী হওয়ার সুযোগ দেবে না।”
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে ঝিনাইদহ শহরে একটি পার্কের মিলনায়তনে জেলা জামায়াত আয়োজিত ‘ওয়ার্ড সভাপতি সম্মেলনে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “দেশের মানুষ বারবার রক্ত দিয়েছে, আমরা আর রক্ত দিতে চাই না। কিন্তু এই সরকার ফের ফ্যাসিবাদী শাসনের পথে হাঁটা শুরু করেছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার এখন ছলচাতুরি শুরু করছে।” প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বগুড়ার সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন জামায়াতের ওপর নাকি স্বৈরাচারের আত্মা ভর করেছে। আমরা বলতে চাই, বিএনপি সরকারকে আসলে ভূতে ধরেছে—কর্তৃত্ববাদী ফ্যাসিবাদী শাসনের ভূতে। যে কারণে তারা সামনের দিকে এগোতে পারছে না।”
তিনি নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করার অভিযোগ তুলে বলেন, “আজ যারা জামায়াত-শিবিরকে ‘গুপ্ত’ বলে গালি দেয়, ১৭ বছর তারাই বিদেশে লুকিয়ে ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে বিএনপির ‘গুপ্ত’ উপদেষ্টারা ছিলেন, যারা এখন সরকারের মন্ত্রী হয়েছেন। জনগণ জানে আসল গুপ্ত কারা।”
জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার নিয়ে ৩৩টি রাজনৈতিক দল ঐকমত্যে পৌঁছালেও বিএনপি ১০টি পয়েন্টে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে বিরোধিতা করেছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অধিকাংশ দল একমত হওয়া সত্ত্বেও বিএনপি এখন গণভোটের রায় বাতিল করতে চায়। সংবিধানের দোহাই দিয়ে তারা ফ্যাসিবাদী শাসন টিকিয়ে রাখার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।”

ঝিনাইদহকে শহীদের রক্তে ভেজা জনপদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ অঞ্চলের মানুষ বছরের পর বছর বাড়িতে ঘুমাতে পারেনি। জীবনের বিনিময়ে সেই দুঃশাসন বিলোপ করা হয়েছে। সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “জনগণের গণভোটের ম্যান্ডেট মূল্যায়ন না করলে জনগণ আবারও রাস্তায় নামবে। রাজপথে কীভাবে আন্দোলন করতে হয় তা আমাদের জানা আছে। আমাদের রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না।”
ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের এই সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মোবারক হোসেন, ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমান এবং ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালেব, ঝিনাইদহ জেলা সহকারি সেক্রেটারি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সহ জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
ধ্রুব/এস.আই