ধ্রুব ডেস্ক
আটক নেতাকর্মিদের মুক্ত করে ফিরছেন ডাকসু ভিপি সাদেক কায়েম ছবি: ধ্রুব নিউজ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর কন্যাকে নিয়ে এআই-প্রযুক্তি নির্ভর ভুয়া ফটোকার্ড ছড়ানোকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হতে শুরু করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলের সেই ঘটনার জেরে আটক হওয়া ছাত্রশিবির নেতাদের আজ শুক্রবার ভোরে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে, এ ঘটনায় ছাত্রদল সভাপতি দুঃখপ্রকাশ করেছেন। একই সাথে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
থানা থেকে মুক্তি পেলেন শিবির নেতারা
ধানমণ্ডি থানায় আটক থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের নেতাদের আজ শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টায় ছেড়ে দেওয়া হয়। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নিরাপত্তার অজুহাতে তাদের শাহবাগ থানা থেকে ধানমণ্ডি থানায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আটকদের মুক্ত করতে সারা রাত থানায় অবস্থান করেন ডাকসু ভিপি সাদেক কায়েমসহ শিবিরের নেতাকর্মীরা।
যা ঘটেছিল
শিবিরের সাবেক তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের ফেসবুক আইডি থেকে একটি আপত্তিকর ফটোকার্ড ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছিল ছাত্রদল। তবে ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণে প্রমাণিত হয় যে, পোস্টটি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ করেননি, বরং এটি এআই (AI) প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি একটি ‘ডিপফেক’ প্রোপাগান্ডা। এই বিষয়ে জিডি করতে শাহবাগ থানায় গেলে সেখানে ছাত্রদলের হামলার শিকার হন শিবিরের প্রতিনিধিরা।
দুঃখপ্রকাশ করেছেন ছাত্রদল সভাপতি
শাহবাগ থানায় ডাকসু নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি বলেন, ‘যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি হয়েছে, তার জন্য আমি ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দুঃখপ্রকাশ করছি।’ তবে তিনি ভবিষ্যতে মব সৃষ্টি হতে পারে এমন পরিস্থিতি তৈরি না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
রাকিবুল ইসলাম আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারকে নিয়ে এ ধরনের নোংরা প্রোপাগান্ডায় নেতাকর্মীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে, যার ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল।
ঢাবি প্রশাসনের কঠোর অবস্থান ও তদন্ত কমিটি
ক্যাম্পাসে উদ্ভূত পরিস্থিতি ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৬ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুব কায়সারকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এছাড়া সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ফেসবুকে অশালীন পোস্ট দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে পৃথক একটি ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে ইতিমধ্যে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
ক্যাম্পাসে স্থিতিশীলতার আহ্বান
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটি জরুরি সভা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীদের আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষায় সব ধরনের দেয়াল লিখন ও গ্রাফিতি অঙ্কন থেকে বিরত থাকতে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।