রফিক মন্ডল,কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ)
ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মতিয়ার রহমান ছবি: ধ্রুব নিউজ
কোটচাঁদপুর-মহেশপুরের সাধারণ মানুষ এখন ‘উন্নয়নের ভোরের’ অপেক্ষায়। ৪১টি মামলার পাহাড় মাথায় নিয়ে ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন মো. মতিয়ার রহমান। আইনি জটিলতা আর নানা বিতর্কের আবর্তে থাকলেও তার নির্বাচনী এলাকায় সমর্থকদের কাছে তিনি এক ‘ব্যতিক্রমী ও বহুমাত্রিক’ নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি। সমর্থকদের দাবি—কেবল রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং অগাধ পাণ্ডিত্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক বিরল উদাহরণ হয়ে উঠেছেন তিনি।
স্থানীয় অনুসারীদের মতে, মতিয়ার রহমান একজন প্রাজ্ঞ গবেষক। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে পবিত্র কোরআনের তাফসির পেশ করতে সক্ষম। তবে তার জ্ঞানের পরিধি কেবল ইসলাম ধর্মেই সীমাবদ্ধ নয়। হিন্দু ধর্মগ্রন্থ বেদ ও শ্রীমদ্ভাগবত গীতা, বৌদ্ধদের ত্রিপিটক, খ্রিস্টানদের বাইবেল এমনকি পারসিকদের জেন্দাবেস্তা সম্পর্কেও তার গভীর অধ্যয়ন ও দখল রয়েছে বলে জানা যায়।
কোরআন ও বিজ্ঞানের মধ্যে সামঞ্জস্য নিয়ে তার গবেষণা স্থানীয় পর্যায়ে তাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ধর্মীয় ও দার্শনিক জ্ঞানের পাশাপাশি সাহিত্য জগতেও রয়েছে তার সরব পদচারণা। ২০২২ সালে নজরুল একাডেমির আমন্ত্রণে দেশবরেণ্য ব্যক্তিত্বদের সাথে তার কলকাতা সফর সেই সাহিত্যিক গ্রহণযোগ্যতারই বড় প্রমাণ।
কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর এলাকার সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ মনে করছেন, তারা একজন যোগ্য ও শিক্ষিত নেতা পেয়েছেন।তিনি এলাকার সমস্যা ও উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরবেন সংসদে। তবে তারা একইসাথে বাস্তববাদী। তাদের মতে, একটি বিশাল অঞ্চলের উন্নয়ন এককভাবে কারো পক্ষে সম্ভব নয়। এলাকার অবকাঠামো ও সামাজিক পরিবর্তনের জন্য সংসদ সদস্যের নির্দেশনার পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা ও ঐক্যের ওপর তারা বিশেষ জোর দিচ্ছেন।
মতিয়ার রহমানকে নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক প্রসঙ্গে স্থানীয় সচেতন মহলের বক্তব্য বেশ স্পষ্ট— ‘মানুষ হিসেবে প্রত্যেকেরই দোষ-গুণ থাকে’। সমর্থকদের মতে, ঢালাওভাবে সমালোচনা না করে যেকোনো ভুলত্রুটি বা মতবিরোধ সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।
আইনি জটিলতা আর রাজনৈতিক ঝড় ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত মতিয়ার রহমান তার অর্জিত জ্ঞান ও কর্ম দিয়ে জনগণের আস্থার প্রতিফলন ঘটাতে পারেন কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
ধ্রুব/টিএম