ক্রীড়া ডেস্ক
জাপানে ‘অফিস চেয়ার রেসিং’-এ প্রতিযোগীরা। ছবি: সংগৃহীত
চাকাযুক্ত অফিস চেয়ারে বসে নড়াচড়া করার অভ্যাস অনেকেরই আছে। কিন্তু সে অভ্যাসকেই যদি ফর্মুলা ওয়ানের মতো রেসিংয়ে কাজে লাগানো হয়, তাহলে কেমন হবে? সম্প্রতি জাপানে ঠিক এমনই একটি রেসিংয়ের আয়োজন হয়েছে।
দেশটির কি উপদ্বীপের কুমানোতো এলাকায় আয়োজিত ‘অফিস চেয়ার রেসিং’-এ অংশ নিয়েছিলেন কয়েক ডজন অফিসকর্মী। চেয়ারে বসে পায়ের পেশির সবটুকু শক্তি দিয়ে মাটিতে ধাক্কা দিয়ে তারা উল্টো দিকে ছুটে চলেন।
২০১০ সালে চালু হওয়া এই খেলাটি জাপানে দিনে দিনে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তিনজনের একেকটি দল দুই ঘণ্টা ধরে একটি নির্দিষ্ট পথে যত বেশি সম্ভব চক্কর দেওয়ার চেষ্টা করে। এই সময়ে প্রতিযোগীরা প্রায় ২০ কিলোমিটার বা তারও বেশি পথ অতিক্রম করেন।
কিয়োতো অঞ্চলের কিওতানাবে শহরে খেলাটি চালু করেছিলেন সুয়োশি তাহার নামের একজন। ছোটবেলায় অফিস চেয়ার নিয়ে খেলার অপরাধে এক শিক্ষক তাঁকে বকাঝকা করেছিলেন। সেই স্মৃতি থেকেই তিনি মজার খেলাটি চালুর অনুপ্রেরণা পান।
এরপর থেকে খেলাটি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতি বছর টোকিও, কিয়োতো এবং শিজুওকাসহ ১০টি শহরে ‘অফিস চেয়ার রেসিং’ অনুষ্ঠিত হয়। টয়োটার মতো বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোও এখানে তাদের দল পাঠায়।
বিজয়ীরা পুরস্কার হিসেবে পান ৯০ কেজি চাল। পুরস্কার হিসেবে চাল বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে সুয়োশি তাহার জানান, জাপানের সব অঞ্চলে চালের জনপ্রিয়তা আছে। তবে কিছু আঞ্চলিক বৈচিত্র্যও রাখা হয়। যেমন- টোকিওতে প্রথম পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় ৫ কেজি টুনা মাছ।
সম্প্রতি রেসিংয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন ইয়াসুনোরি মিউরা। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ডেস্কে বসে কাজ করেন। কিন্তু অবসর সময়ে অফিস চেয়ার নিয়ে কঠোর অনুশীলনে নেমে পড়েন। জিমের চেয়ার ব্যবহার করে ২০০ মিটারের ৪০ বা ৫০টি রান দেওয়া এখন তাঁর নিয়মিত ওয়ার্কআউট।
পায়ের ওপর বেশি চাপ তৈরি করতে মিউরা সপ্তাহে চারদিন ভারী অফিস চেয়ার নিয়ে অনুশীলন করেন। সপ্তাহে দুইদিন জিমে গিয়ে শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম করেন। মিউরা বলেন, যেহেতু আমরা একই পথে বারবার চক্কর দিই, তাই অন্য দল এবং প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত দেখা হয়। তখন প্রতিযোগিতাও জমে ওঠে।