ক্রীড়া ডেস্ক
গোল করার পর সতীর্থকে জড়িয়ে ধরে উল্লাস করে বার্সা অধিনায়ক আলেক্সিয়া পুতেলাস। ছবি: সংগৃহীত
বার্সেলোনা বনাম রিয়াল মাদ্রিদ— নামটা যখন 'এল ক্লাসিকো', উত্তেজনার পারদ থাকে তুঙ্গে। তবে মাঠের লড়াইয়ে রিয়াল মাদ্রিদকে পাত্তাই দিল না বার্সেলোনা নারী দল। মেয়েদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করল বর্তমান স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা। ফিরতি লেগে ৬-০ গোলের বিশাল জয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ১২-২ ব্যবধানের এক বিশাল 'মৌলিং' বা বিধ্বস্ত করার মহোৎসব শেষে সেমিফাইনালে পা রাখল বার্সা।
ক্লাসিকোর ইতিহাসে নতুন রেকর্ড
গত বৃহস্পতিবারের এই জয়টি নারী ক্লাসিকোর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড। শুধু তা-ই নয়, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চে এটি রিয়াল মাদ্রিদের সবচেয়ে বড় পরাজয়ও বটে। গত রবিবার লিগ ম্যাচেও রিয়ালকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল বার্সা। ফলে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে মাদ্রিদকে তারা ডোবাল ১৫-২ গোলের লজ্জায়।
ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যু-তে ৬০,০৬৭ জন দর্শকের সামনে শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে বার্সেলোনা। ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই ক্লাবের হয়ে নিজের ৫০০তম ম্যাচ খেলতে নামা আলেক্সিয়া পুতেলাস গোল করে উৎসবের সূচনা করেন। এটি ছিল বার্সার জার্সিতে তার ২৩০তম গোল। একইসাথে স্প্যানিশ নারী খেলোয়াড় হিসেবে ইউরোপীয় ক্লাব প্রতিযোগিতায় ৩০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করলেন এই ব্যালন ডি'অর জয়ী তারকা।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই লড়াই থেকে ছিটকে যায় রিয়াল। পুতেলাসের পর জালের দেখা পান ক্যারোলিন গ্রাহাম হ্যানসেন, আইরিন পারেদেস এবং এওয়া পাজোর। প্রথমার্ধেই ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বার্সা।
বিরতির পর নিজের দ্বিতীয় গোলটি পূর্ণ করেন গ্রাহাম হ্যানসেন। এরপর তরুণ প্রতিভা ক্লারা সেরাজর্ডির পাস থেকে শেষ গোলটি করেন এসমী ব্রুগটস। এতেই পূর্ণ হয় রিয়ালের ৬-০ গোলের লজ্জা।
এই নিয়ে টানা আটবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে ওঠার রেকর্ড গড়ল বার্সেলোনা। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বার্সা মুখোমুখি হবে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখের। গ্রুপ পর্বেও বায়ার্নকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল কাতালানরা। গত মৌসুমে আর্সেনালের কাছে হারানো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মুকুটটি এবার পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া বার্সেলোনা। চলতি আসরে এখন পর্যন্ত তারা অপরাজিত।
বার্সেলোনার এমন দাপুটে পারফরম্যান্স জানান দিচ্ছে, ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের সিংহাসনে ফেরার দৌড়ে তারা কতটা ক্ষুধার্ত। রিয়াল মাদ্রিদের জন্য ম্যাচটি ছিল কেবল একটি পরাজয় নয়, বরং বার্সার শ্রেষ্ঠত্বের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ।