❒ চন্দ্রাভিযানে ৩২ তলা রকেট আর্টেমিস-২
ধ্রুব ডেস্ক
নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং জেরেমি হ্যানসেন। ছবি: সংগৃহীত
অপেক্ষা অর্ধশতাব্দীর। স্তব্ধতা কয়েক প্রজন্মের। বুধবার ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের আকাশ চিরে ৩২ তলা বিশাল এক রকেটের গর্জনে কোটি মানুষের হৃদস্পন্দন এক নিমেষে থেমে গিয়েছিল। নাসা সফলভাবে সম্পন্ন করল তাদের ঐতিহাসিক 'আর্টেমিস ২' চন্দ্রাভিযান। এটি শুধু একটি রকেটের উড্ডয়ন নয়; মানুষের অজেয় সংকল্পের এক জয়যাত্রা, যা আমাদের আবারও চাঁদে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং যার চূড়ান্ত গন্তব্য—রহস্যময় লাল গ্রহ মঙ্গল!
উৎক্ষেপণের ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেও পরিবেশ ছিল থমথমে। ইতিহাসের পাতায় লেখা আছে হাইড্রোজেন লিকের সেই দুঃসহ স্মৃতির কথা, যার কারণে আগে একবার অভিযান স্থগিত করতে হয়েছিল। ২৬ লক্ষ লিটার ভয়ংকর শীতল জ্বালানি যখন রকেটে ভরা হচ্ছিল, তখন প্রতিটি মুহূর্ত ছিল অগ্নিপরীক্ষা। প্রযুক্তির ছোটখাটো বিপত্তি বা তাপমাত্রার ওঠানামা—কিছুই দমাতে পারেনি নাসার অদম্য বিজ্ঞানীদের। সব বাধা ডিঙিয়ে যখন কাউন্টডাউন জিরোতে পৌঁছাল, তখন ফ্লোরিডার আকাশ আলোকিত করে মহাকাশযানটি পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে অজানার পথে পা বাড়াল।
এই অভিযানে রয়েছেন চারজন লড়াকু মহাকাশচারী—রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং জেরেমি হ্যানসেন। পৃথিবী থেকে কয়েক লক্ষ কিলোমিটার দূরে, যেখানে গত ৫০ বছরে কোনো মানুষের ছায়া পড়েনি, সেই গভীর মহাকাশে পাড়ি দিয়েছেন তাঁরা। উড্ডয়নের মাত্র পাঁচ মিনিট পরেই কমান্ডার ওয়াইজম্যানের সেই অবিস্মরণীয় কণ্ঠ ভেসে আসে: "খুব সুন্দর চাঁদ উঠছে, আমরা সরাসরি সেদিকেই এগোচ্ছি।"
১০ দিনের এই দুঃসাহসিক যাত্রায় নভোচারীরা ওরিয়ন ক্যাপসুলে বসে পরীক্ষা করবেন পৃথিবীর বাইরের জীবন রক্ষার কঠিনতম সব প্রযুক্তি। চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে ব্যবহার করে একটি 'ফ্রি-রিটার্ন ট্র্যাজেক্টরি' বা বিশেষ পথে তাঁরা ফিরে আসবেন পৃথিবীতে। ঘণ্টায় ৪০,২৩৩ কিলোমিটারের অবিশ্বাস্য গতিতে যখন ক্যাপসুলটি প্রশান্ত মহাসাগরে আছড়ে পড়বে, তখন রচিত হবে বিজ্ঞানের শ্রেষ্ঠতম অধ্যায়।
আর্টেমিস ২ আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে—আমরা শুধু মাটির পৃথিবীতে আটকে থাকার জন্য নই, আমাদের গন্তব্য ওই নক্ষত্রপুঞ্জ!
ধ্রুব/এস.আই