ধ্রুব ডেস্ক
ইতিহাস সাক্ষী আছে, যখন কোনো শাসকগোষ্ঠী পতনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছায়, তারা তখন সবচেয়ে নিষ্ঠুর আইন তৈরি করে। ইসরায়েলি সংসদে (নেসেট) সম্প্রতি ফিলিস্তিনিদের জন্য পাশ হওয়া 'মৃত্যুদণ্ড আইন' সেই চরম দেউলিয়াত্বেরই প্রমাণ। ফিলিস্তিনিদের ওপর পদ্ধতিগত নিপীড়নের এই নতুন হাতিয়ার নিয়ে যখন কট্টর ডানপন্থীরা উল্লাসে মেতেছে, তখন ফিলিস্তিনি জনগণের চোখেমুখে ভয়ের বদলে ফুটে উঠেছে তীব্র প্রতিরোধের প্রত্যয়।
যে রাষ্ট্রটি নিজেকে 'মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র গণতন্ত্র' বলে দাবি করে, তাদের আসল চেহারা উন্মোচিত হয়েছে বিচারব্যবস্থার এই নগ্ন বৈষম্যে। তথাকথিত সামরিক আদালতে ফিলিস্তিনিদের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার হার ৯৯.৭৪ শতাংশ—যা বিশ্বের যেকোনো বিচারব্যবস্থায় বিরল এবং অমানবিক। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনিদের হত্যাকারী ইসরায়েলিদের ক্ষেত্রে সাজা হওয়ার হার মাত্র ৩ শতাংশ। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, এটি কোনো বিচার নয়, বরং এক সুপরিকল্পিত 'বর্ণবাদী শাসন' বা অ্যাপার্থাইড।
ফিলিস্তিনিরা আজ আর একা নয়। যখন ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র জোট ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের উস্কানি দিচ্ছে এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতন বাড়াচ্ছে, তখন ইরান ও তার মিত্ররা হয়ে উঠছে ফিলিস্তিনিদের জন্য আস্থার প্রতীক। দখলদারদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে এই আঞ্চলিক শক্তিগুলোর রুখে দাঁড়ানো ফিলিস্তিনি জনগণকে নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। ইতিহাস বলছে, অত্যাচারী যত শক্তিশালীই হোক, ন্যায়ের পক্ষের মানুষের সংহতির কাছে তাদের হার মানতেই হয়। আর তাই বলা যেতেই পারে ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড অস্থায়ী। খাদের কিনারায় ইহুদিবাদি দাদাবাবুগিরি।
বামপন্থী আইনপ্রণেতা আইদা তোউমা-সুলেইমান যখন নেতানিয়াহুর চোখে চোখ রেখে বলেছিলেন যে, ইতিহাস তাঁকে 'বর্ণবাদী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা' হিসেবে মনে রাখবে, তখন তা ছিল মূলত কোটি কোটি মজলুম মানুষের কণ্ঠস্বর। বেন-গভিরদের 'মৃত্যু স্লোগান' আজ তাদের নিজেদেরই নৈতিক পতনের বার্তা দিচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের জন্য এটি শোকের সময় নয়, বরং শক্তি সঞ্চয়ের সময়। কারণ যখন শত্রুরা প্রকাশ্য দিবালোকে অন্যায়কে আইন করে স্বীকৃতি দেয়, বুঝতে হবে তাদের আয়ু ফুরিয়ে আসছে। সত্য ও ন্যায়ের এই লড়াইয়ে বিজয় নিশ্চিত—এই আশাটুকুই আজ ফিলিস্তিনিদের এবং তাদের পাশে থাকা ইরানসহ বিশ্বের প্রতিটি শান্তিকামী মানুষের মূল শক্তি।
ফিলিস্তিনি-আমেরিকান লেখক—রামাল্লায় বসবাসকারী মারিয়াম বারঘুতি’র আল-জাজিরার প্রতিবেদন থেকে।
ধ্রুব/এস.আই