আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জ্বলছে ইসরাইল ছবি: ফাইল ছবি
পশ্চিমা বিশ্বের সমস্ত চাপ এবং আকাশচুম্বী নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে ইরান। ওয়াশিংটনের ক্রমাগত হুমকি আর হামলার মুখেও পিছু হটা তো দূরের কথা, বরং পাল্টা চালে বিশ্ব অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। একদিকে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির বয়ান বারবার পাল্টে যাচ্ছে, অন্যদিকে ইরান তার নীতিতে অটল থেকে বিশ্বকে বুঝিয়ে দিচ্ছে—পারস্যের এই শক্তিকে অবদমিত করা অসম্ভব।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা বন্ধ করে দিতে পারে। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন ভিন্ন কথা। কুইন্সি ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ত্রিতা পারসি জানিয়েছেন, ট্রাম্পের এই সময়সীমা আদতে এক প্রকার ‘আইওয়াশ’। কয়েক সপ্তাহ আগেও তারা একই কথা বলেছিল, কিন্তু মাঠ পর্যায়ের চিত্র বলছে—মার্কিন সামরিক শক্তি এখন একটি বিপর্যয়ের মুখোমুখি। কোনো চুক্তি ছাড়াই সরে যাওয়ার কথা বলে ট্রাম্প আসলে একটি সম্মানজনক প্রস্থানের পথ খুঁজছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরানি বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম গ্যালন প্রতি ৪ ডলার ছাড়িয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আজ একা। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর শক্ত অবস্থান এবং ব্রিটিশ নৌবাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা তেহরানের জন্য এক বিশাল কূটনৈতিক বিজয়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে দিয়েছে, ওয়াশিংটনের সাথে কোনো আলোচনা চলছে না এবং ইরান তার শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে এক চুলও সরবে না। বরং প্রতিবার হামলার পর ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে আবির্ভূত হচ্ছে।
যুদ্ধ এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। ইরান প্রমাণ করেছে যে, কেবল সামরিক শক্তি দিয়ে একটি আদর্শবাদী জাতিকে দমন করা যায় না। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এখনও ইরানের হাতেই রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যখন বলছেন যে মিশন ‘অর্ধেক শেষ’, তখন বিশ্ব দেখছে যে তেলের বাজারে আগুন লেগেছে এবং হোয়াইট হাউসে ভাঙনের সুর বাজছে। ইরানের এই অটল মনোভব এবং কৌশলগত ধৈর্য মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন ভোরের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে বাইরের শক্তির খবরদারি আর চলবে না।