ধ্রুব ডেস্ক
মাইলফলক ছোঁয়ার আগে ছোটখাটো পরীক্ষা-নিরীক্ষা তো থাকবেই! ঠিক সেই রোমাঞ্চ নিয়েই দীর্ঘ ৫২ বছর পর চাঁদের দেশে পাড়ি জমানোর চূড়ান্ত ক্ষণগণনা শুরু করেছে নাসা। যান্ত্রিক ঝক্কি আর প্রকৃতির খামখেয়ালি—সব জয় করে এখন কেবল মেঘ ফুঁড়ে ওড়ার অপেক্ষা। মঙ্গলবার নাসার উৎক্ষেপণ মঞ্চ থেকে ভেসে আসা সংবাদটি সারা বিশ্বের মহাকাশপ্রেমীদের মনে জোগাচ্ছে নতুন আশা।
বাধার পাহাড় টপকে সফল কাউন্টডাউন নাসা জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহের অস্থিরতা কাটিয়ে অবশেষে একটি সম্পূর্ণ 'ঝামেলাবিহীন' কাউন্টডাউন সম্পন্ন হয়েছে। ৩২ তলা উঁচু দানবীয় 'স্পেস লঞ্চ সিস্টেম' (SLS) রকেটটি এখন তার উৎক্ষেপণ মঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, রকেটের প্রতিটি কলকবজা এখন নিখুঁতভাবে সাড়া দিচ্ছে। জ্যেষ্ঠ টেস্ট ডিরেক্টর জেফ স্পল্ডিং-এর কণ্ঠে ছিল আত্মবিশ্বাসের সুর। তিনি বলেন, “উৎক্ষেপণ দলের সবাই এখন ভীষণ উত্তেজিত। আমরা এই অভিযানের তাৎপর্য অনুধাবন করতে পারছি।”
১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ অভিযানের পর আর কোনো মানুষ চাঁদের প্রতিবেশী হতে পারেনি। সেই দীর্ঘ অপেক্ষার ইতি টানছে 'আর্টেমিস-২'। চারজন সাহসী নভোচারী—যাঁদের মধ্যে রয়েছেন তিনজন আমেরিকান ও একজন কানাডিয়ান—ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত। তাঁরা অবতরণ না করলেও চাঁদের চারপাশ ঘুরে এসে জানান দেবেন, পৃথিবী আবার তৈরি হচ্ছে উপগ্রহটিকে আপন করে নিতে।
ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ, এরপর এপ্রিল—বারবার জ্বালানি লিক আর হিলিয়াম লাইনের জটিলতায় থমকে গিয়েছিল অভিযান। কিন্তু নাসার বিজ্ঞানীরা পিছু হটেননি। হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের সেই সব কারিগরি ত্রুটি এখন অতীত। মহাকাশ সংস্থাটি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছে, প্রতিটি সমস্যার সমাধান হয়েছে অত্যন্ত নিপুণভাবে। মূলত এই নিখুঁত প্রস্তুতিই অভিযানে অংশ নেওয়া নভোচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।
প্রকৃতিও যেন এবার মানুষের এই অসীম সাহসের পাশে দাঁড়িয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, উৎক্ষেপণের জন্য অন্তত ৮০ শতাংশ অনুকূল পরিস্থিতি বজায় থাকবে। বুধবার সকালেই রকেটে জ্বালানি ভরার কাজ শুরু হবে এবং সন্ধ্যার সেই মাহেন্দ্রক্ষণে গর্জে উঠবে এসএলএস রকেট। মাসে মাত্র কয়েকটা দিন থাকে যখন চাঁদ ও পৃথিবীর অবস্থান এই অভিযানের অনুকূলে থাকে। সেই বিরল সুযোগটিকেই এবার কাজে লাগাচ্ছে নাসা। বিজ্ঞানীদের এই অটল মনোবল আর চার নভোচারীর স্বপ্ন—সব মিলিয়ে আর্টেমিস-২ কেবল একটি মহাকাশ যাত্রা নয়, এটি মানুষের অজেয় হওয়ার জয়গান।
ধ্রুব/এস.আই