❒ যশোরে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর জেলাকে মাদক সিন্ডিকেট ও কিশোর গ্যাংমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। রোববার যশোর কালেক্টরেটের অমিত্রাক্ষর সভাকক্ষে আয়োজিত জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। সভায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক জানান, চলতি মাসের মাত্র ৮ দিনে মাদকের বিরুদ্ধে যে পরিমাণ অভিযান পরিচালিত হয়েছে, তা গত এক বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এই সময়ের মধ্যে অন্তত ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করে সাজা প্রদান অথবা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আটককৃতদের ছাড়াতে এখন পর্যন্ত কেউ তদবির করেনি এবং প্রশাসনও কোনো প্রকার তদবির গ্রহণ করবে না। ডিসি আরও উল্লেখ করেন যে, অতীতে মাদক সিন্ডিকেটগুলো রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পরিচালিত হলেও বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো হস্তক্ষেপ নেই, যা প্রশাসনের কাজকে সহজ করে দিয়েছে।
সভায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন প্রশাসনের কাজের প্রশংসা করলেও কিছু পুলিশ সদস্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, চাঁচড়া ফাঁড়িসহ কয়েকটি ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যদের সাথে মাদক কারবারীদের সখ্যতা রয়েছে। এছাড়া কোতোয়ালি থানার ওসির কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিলেও প্রতিকার না পাওয়ার বিষয়টি তিনি সভায় উত্থাপন করেন। দেলোয়ার হোসেন খোকন দলীয় কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, আমাদের দলের কেউ যদি মাদক বা অপরাধে জড়িত হয়, তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবেন, কোনো ছাড় হবে না। তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, কেউ যদি বিএনপি করতে চায় তবে চাকরি ছেড়ে এসে দল করুক; সরকারি পদে থেকে দলবাজি সহ্য করা হবে না।
সভায় জানানো হয়, আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে ভোজ্য তেল ও গ্যাস সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে একটি চক্র। তবে সরকারিভাবে কোনো কিছুর দাম বাড়েনি এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। সীমান্তে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং সম্প্রতি ভারতীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। জেলা পিপি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে সোনা বিক্রির নামে একটি প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যারা সাধারণ মানুষের সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে।
শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাত ১২টার আগে শহরে বাস, ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যান প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ফুটপাত দখল করে রাখা নির্মাণসামগ্রী ও দোকানের মালামাল বাজেয়াপ্ত করে নিলামে তোলা হবে। ইজিবাইক ও অটোরিক্সার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এনে অবৈধ যান জব্দ করা হবে। বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে রাতে বিপনী বিতান খোলা রাখা যাবে, তবে প্রত্যেক বিপনী বিতানের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার, সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা, ডিডিএলজিইডি ও পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানা, সেনা বাহিনীর ২ ইস্ট বেঙ্গলের উপ অধিনায়ক মেজর মাসুদ, ৪৯ বিজিবির উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আসাদ, এনএসআইয়ের যুগ্ম পরিচালক আবু তাহের মো. পারভেজ, চেম্বার অব কমার্সর সাধারণ সম্পাদক তানভীরুল ইসলাম সোহান, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন প্রমুখ।