ধ্রুব ডেস্ক
তানভীর বারী হামিম ছবি: সংগৃহীত
সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রদলের নেতা তানভীর বারী হামিমসহ দুই নেতাকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ। তারা হলেন- ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী তানভীর বারী হামিম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের ভাই মাহদীজ্জামান জ্যোতি।
মঙ্গলবার সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম পাঠানো পৃথক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংগঠনটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির অনুমোদন করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অধীন কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিমকেও সাংগঠনিক পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
একই দিনে পাঠানো আরেকটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. মাহদীজ্জামান জ্যোতিকে তার সাংগঠনিক পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে শেখ তানভীর বারী হামিমকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেয় ছাত্রদল।
নোটিশের পর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া শেখ তানভীর বারী হামিম বলেন, লিখিত জবাব দিতে বলা হলেও তিনি লিখিত জবাব দেবেন না। তিনি বলেন, এমন কোনো বড় অন্যায় তিনি করেননি যে বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে না জানিয়ে সরাসরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকজপত্র প্রকাশ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, তিনি জানতে পারেন, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি ইফতার মাহফিল ও কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতার আয়োজন করার কারণেই তাকে শোকজ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা যদি মনে করেন তিনি অন্যায় করেছেন, তবে সেই ‘অন্যায়’ মাথা পেতে নেবেন এবং প্রয়োজনে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন।
এদিকে মাহদীজ্জামান জ্যোতির ‘নেশার’ আসরের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পরে এটি নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়।
বহিষ্কারের নোটিশের পর তানভীর বারী হামিম ফেসবুকে বলেন, আমি দলের একজন কর্মী। এতটুকু পরিচয়ই আমার জন্য প্রচণ্ড গর্বের, আলহামদুলিল্লাহ।
প্রসঙ্গত, ডাকসুর পর থেকেই ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ নেতারা এবং জুনিয়রদের মধ্যে একটি দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ডাকসুতে ছাত্রদলের প্যানেলে ভিপি পদে নির্বাচন করা আবিদুল ইসলাম খান ও তানভীর বারী হামিম সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন। এটিকে অন্যরা সাংগঠনিক চেইন অব কমান্ড ঠিক থাকছে না বলে মনে করেন।