বিশেষ প্রতিবেদক
নির্বাচনী মালামাল কেন্দ্র কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ছবি: ধ্রুব নিউজ
আজ বৃহস্পতিবার বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। ইতোমধ্যে যশোরের ৬টি সংসদীয় আসনের ৮২৪টি কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে নির্বাচনী সরঞ্জাম। বুধবার বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসাররা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছে এসব নির্বাচনী সামগ্রী হস্তান্তর করেন। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হবে ভোটগ্রহণ।
যশোর জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৬টি সংসদীয় আসনে অফিশিয়ালি ৩৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যদিও নির্ধারিত সময়ের পর যশোর-২ আসনের প্রার্থী জহুরুল ইসলাম প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছিলেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন এবং যশোর-৪ আসনের হাতপাখার প্রার্থী মাওলানা আশেক এলাহী জামায়াতের গোলাম রসুলকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।
সূত্রমতে, জেলার ৮২৪টি কেন্দ্রের জন্য ৪ হাজার ৬৭৯টি ভোটকক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে ৭০টি অস্থায়ী এবং ৪ হাজার ৬০৯টি স্থায়ী কক্ষ। ৮২৪ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৪ হাজার ৬৭৯ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৯ হাজার ৩৫৮ জন পোলিং অফিসারসহ মোট ১৪ হাজার ৮৬১ জন ভোট কর্মকর্তা ভোটগ্রহণের জন্য নিয়োজিত হয়েছেন। মোট ২৪ লাখ ৭১ হাজার ৯০৮ জন ভোটারের মধ্যে ১২ লাখ ৩২ হাজার ৯৭৭ জন নারী এবং ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৯০৬ জন পুরুষ ভোটার রয়েছেন। তাছাড়া ২৫ জন রয়েছেন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার। দীর্ঘ ১৫ বছর উৎসবমুখর ভোটবঞ্চিত ভোটাররা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় রয়েছেন এই ভোটের জন্য।
ইতোমধ্যে ৩০ হাজারের বেশি ভোটার পোস্টাল ভোট দেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। ভোটের দিন বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে পোস্টাল ব্যালটের প্রাপ্ত ভোটগুলো গণনা করা হবে। তবে নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারী সকলের ঠিকানায় পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হলেও শতভাগ ভোট পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা রয়েছে। অনেকেই হয়তো ভোট দিচ্ছেন না এবং কিছু ভোট হয়তো সময়মতো পৌঁছাবে না। বুধবার সকাল পর্যন্ত ১৯ হাজারের বেশি পোস্টাল ব্যালট ভোটবাক্সে যোগ করা হয়েছে এবং তখনও ভোট জমা হওয়া চলমান অবস্থায় ছিল।
সবচেয়ে বেশি ভোটার ও ভোটকেন্দ্র যশোর-৩ সদর আসনে। এই আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৯০টি এবং মোট ভোটার ৬ লাখ ১৩ হাজার ৪৬২ জন। সবচেয়ে কম ভোটকেন্দ্র যশোর-৬ আসনে; সেখানে মোট ভোটকেন্দ্র ৮১টি এবং মোট ভোটার ২ লাখ ২৯ হাজার ১৬৩ জন। এছাড়া যশোর-১ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ১১ হাজার ৬৩৩ জন এবং ভোটকেন্দ্র ১০২টি। যশোর-২ আসনে ১৭৫টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৪ হাজার ৮৬৯ জন। যশোর-৪ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৫২৯ জন এবং মোট ভোটকেন্দ্র ১৪৮টি। যশোর-৫ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৪ হাজার ২৫২ জন এবং মোট ভোটকেন্দ্র ১২৮টি।
ভোটগ্রহণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আড়াই হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য, আনসারের সাড়ে ১০ হাজার সদস্যসহ সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাবসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনী রয়েছে। স্মরণকালের সেরা নির্বাচন উপহার দিতে নিয়োজিত রয়েছেন ৫২ জন ম্যাজিস্ট্রেট। ৭১টি বডি ওন ক্যামেরা দিয়ে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবে জেলা রিটার্নিং অফিস, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা কাজে নিয়োজিত বাহিনী। এছাড়া সার্বক্ষণিকভাবে ৩শ ক্যামেরার ফুটেজ রেকর্ড করা হবে যা বহন করবেন পুলিশ সদস্যরা। যশোর দেশের একমাত্র জেলা যার প্রতিটি কেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাভুক্ত।
ইতোমধ্যে মঙ্গলবার সার্বিক আইনশৃঙ্খলার প্রস্তুতি নিয়ে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল হক সাংবাদিকদের ব্রিফ করেছেন এবং বুধবার র্যাব-৬ এর কোম্পানি অধিনায়ক মেজর ফজলে রাব্বি যশোর জিলা স্কুল মাঠে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেছেন।
জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান জানিয়েছেন, অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও একটি জনঅংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দিতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। এর ব্যত্যয় ঘটানোর মতো কোনো কাজকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। এখন পর্যন্ত যশোরের ভোটের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে। কোনো প্রকার অস্বাভাবিকতা নেই এবং পরিবেশ বিঘ্ন হওয়ার মতো এখন পর্যন্ত কোনো আশঙ্কা বোধ করছেন না। ভবিষ্যতে বলার মতো একটি গ্রহণযোগ্য ও উদাহরণ হয়ে থাকার মতো স্মরণীয় নির্বাচন উপহার দিতে চান যশোরে।