অভয়নগর ও বেনপোল প্রতিনিধি
যশোরের সীমান্তে বিজিবির অস্ত্র উদ্ধার ছবি: ফাইল ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। এই মাহেন্দ্রক্ষণকে সামনে রেখে একদিকে যেমন যশোরের বিভিন্ন সীমান্ত রুট দিয়ে অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক প্রবেশের খবরে জনমনে আতঙ্ক বাড়ছে, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় যশোরের অভয়নগরে রাতভর চিরুনি অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও ককটেল উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভয়নগর আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মাহফুজ-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে ধুলগ্রাম, ফুলতলা, নিয়েরি ঘাট, সিদ্ধিপাশা ও দামোখালীসহ বেশ কিছু এলাকা ঘিরে ফেলা হয়।
অভিযান চলাকালে সিদ্ধিপাশা এলাকায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সহযোগী ও মাদক ব্যবসায়ী সুলতান গাজী-র বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ককটেল, চাইনিজ কুড়াল ও স্টিলের পাইপসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। সুলতান গাজী কুখ্যাত ডাকাত নেতা গুফরান-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সুলতান ও তার সহযোগী রোমেন গ্যাজা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এছাড়া দামোখালী এলাকায় একাধিক মামলার আসামি ও শীর্ষ সন্ত্রাসী তুহিন-কে ধরতেও অভিযান চালানো হয়, তবে তাকে পাওয়া যায়নি।
নির্বাচনের আগে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে যশোরের শার্শা, চৌগাছা ও ঝিকরগাছা সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অবৈধ অস্ত্র আসার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, গত দুই মাসে বেশ কিছু চালান ধরা পড়লেও বড় একটি অংশ সন্ত্রাসীদের হাতে পৌঁছে গেছে। বিশেষ করে ভারতের বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের তৈরি বিভিন্ন ধরনের পিস্তল (কাটরা, বেলঘরিয়া, ময়ূর পিস্তল) এবং রিভলবার ছোট আকৃতির হওয়ায় তা সহজেই বহন করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাঘারপাড়ায় ১০টি গ্রেনেড ও বিদেশি পিস্তল উদ্ধার এবং শহরের বারান্দি মোল্লাপাড়ায় আমেরিকা তৈরি পিস্তলসহ চারজনকে আটকের ঘটনা ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সীমান্তের পরিস্থিতি নিয়ে যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী জানান, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্তে নজরদারি সর্বোচ্চ পর্যায়ে বাড়ানো হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেন , কোনো অস্ত্রের চালান সীমান্ত পেরিয়ে ভেতরে ঢোকার আগেই তা প্রতিহত করা হবে।
অন্যদিকে, সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নির্বাচনের আগে ও নির্বাচন চলাকালীন সময়ে যেকোনো ধরনের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সহিংসতা রোধে এ ধরনের চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে।
যশোরের সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই তৎপরতা শুধু অভিযান পর্যন্তই সীমাবদ্ধ না থেকে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে একটি নিরাপদ ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করবে।