ধ্রুব রিপোর্ট
ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোর: জানুয়ারির মিঠে রোদ মাখা এক বিকেল। যশোর সদর উপজেলার কোদালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ তখন অনেক লোকের সমাগম। তবে এই সমাগম কোনো রাজনৈতিক প্রচারণার জন্য নয়, বরং ভোটের মাঠে সম্প্রীতির সুর বাঁধতে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে 'সচেতন নাগরিক কল্যাণ'–এর উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভা রূপ নিলো এক অন্যরকম মিলনমেলায়, যেখানে মূল দাবি একটাই— ‘শান্তিপূর্ণ ভোট, নিরাপদ জনপদ’।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ঘড়ির কাঁটায় তখন বিকেল ৩টে। গ্রামের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে স্থানীয় সুধীজন— সবার চোখেমুখে একই প্রত্যাশা। কীভাবে একটি ভীতিহীন পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা যায়, তা নিয়ে চলল প্রাণবন্ত আলোচনা। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বললেন, নির্বাচন শুধু ব্যালট পেপারে সিল মারা নয়, এটি একটি উৎসব। আর সেই উৎসবের রঙ যেন কোনোভাবেই সহিংসতার কালো ছায়ায় ম্লান না হয়।
অনুষ্ঠানের মধ্যমণি, প্রধান অতিথি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মাস্টার আজিজুর রহমান তার স্বভাবসুলভ শান্ত কণ্ঠে এক গভীর সত্য উচ্চারণ করলেন। তিনি বললেন, "সহিংসতা কখনো গণতন্ত্রের ভাষা হতে পারে না। আমরা চাই প্রতিটি মা-বোন, প্রতিটি বৃদ্ধ মানুষ যেন নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন।" তার এই বক্তব্যের প্রতিধ্বনি শোনা গেল উপস্থিত শত শত মানুষের করতালিতে।
সংগঠনের সভাপতি ডা. জামির হোসেনের সভাপতিত্বে এই সভায় উঠে এল তৃণমূলের বাস্তব চিত্র। বক্তারা গুরুত্ব দিলেন গুজব প্রতিরোধে। বর্তমান ডিজিটাল যুগে একটি মিথ্যা গুজব কীভাবে পুরো এলাকার শান্তি নষ্ট করতে পারে, সে বিষয়ে সজাগ থাকার আহ্বান জানান বৈশাখী টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি ও ধ্রুব নিউজের স্টাফ রিপোর্টার মনিরুজ্জামান মনির। সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম তার বক্তব্যে মনে করিয়ে দিলেন, শান্তি বজায় রাখা কেবল প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক কর্তব্য।
সভায় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ফসিয়ার রহমান, মাসুদুর রহমান ও ইসহাক আলীরা যখন সাধারণ মানুষের সারিতে বসে কথা বলছিলেন, তখন মনে হচ্ছিল যেন কোদালিয়ার এক বৃহৎ পরিবারের আড্ডা। যেখানে বিভেদ নেই, আছে কেবল সুন্দর আগামীর স্বপ্ন।
বিকেলের সূর্য যখন পশ্চিমে হেলে পড়ছে, তখন কোদালিয়া মাঠের সেই আলোচনা সভা শেষ হলো এক জমাট প্রত্যাশা নিয়ে। উপস্থিত ভোটারদের চোখে তখন এক নতুন প্রত্যয়— তারা আর ভয় পেতে চান না, তারা চান একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। যশোরের এই সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগটি যেন পুরো দেশের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়ায়। শান্তি ও সংহতির এই ডাক যদি প্রতিটি জনপদে পৌঁছে যায়, তবেই সার্থক হবে আমাদের গণতন্ত্র।