❒ ৩ দিনে সাড়ে ৪ হাজার যাত্রীর পারাপার
বেনাপোল প্রতিনিধি
ভিসা জটিলতা আর নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেও বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে তিন দিনে পারাপার হয়েছেন সাড়ে চার হাজারেরও বেশি যাত্রী। তবে পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ভারত থেকে আসার তুলনায় বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার হিড়িকই বেশি। গত সোম থেকে বুধবার পর্যন্ত যাতায়াতকারী এই ৪ হাজার ৫০৬ জন যাত্রীর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি মানুষ দেশ ছেড়েছেন ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। ভ্রমণ খাতের এই ব্যস্ততা থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে বেনাপোল বন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) কাজী রতন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
ইমিগ্রেশন সূত্রের তথ্যমতে, ১২ থেকে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন দিনে যাতায়াতকারী যাত্রীদের মধ্যে ভারত গমনের প্রবণতাই ছিল মুখ্য। এই তিন দিনে মোট ২ হাজার ৬২৪ জন যাত্রী বাংলাদেশ থেকে ভারতে গেছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৯২০ জন বাংলাদেশি, ৬৮৮ জন ভারতীয় এবং ১৬ জন অন্যান্য দেশের নাগরিক। বিপরীতে ভারত থেকে ফিরেছেন ১ হাজার ৮৮২ জন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৪৯১ জন বাংলাদেশি, ৩৭৫ জন ভারতীয় এবং ১৬ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ভিসা সংক্রান্ত কড়াকড়ির কারণে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যাত্রী চলাচল বর্তমানে অনেক কম।
যাত্রী চলাচলের পাশাপাশি এই তিন দিনে দুই দেশের মধ্যে ৯৬১ ট্রাক পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়েছে। এতে বাণিজ্য খাতে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। বন্দর সূত্র জানায়, তিন দিনে ভারত থেকে ৭৯০ ট্রাক পণ্য আমদানি হয়েছে এবং বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হয়েছে ১৭১ ট্রাক পণ্য। আমদানিকৃত পণ্যের মধ্যে শিল্পকারখানার কাঁচামাল, মেশিনারিজ, অক্সিজেন ও খাদ্যদ্রব্য প্রধান। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে টিস্যু, মেলামাইন ও কেমিক্যালসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি হয়েছে। তবে ভারতের নিষেধাজ্ঞা এবং দেশীয় নীতিমালার কারণে পাটজাত পণ্য ও সুতাসহ বেশ কিছু পণ্যের বাণিজ্য বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টের আগে প্রতিদিন গড়ে ৭০০ ট্রাক পণ্য আনা-নেওয়া হতো। বর্তমানে নানা জটিলতায় বাণিজ্য ও যাত্রী চলাচল অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। গত এক বছরে কোনো বাণিজ্য বৈঠক না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসেই আমাদের ১ হাজার ১৩ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। এছাড়া রেলপথে বর্তমানে শুধুমাত্র ট্রাক্টর আমদানি হচ্ছে এবং বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। বাণিজ্যে গতি ফেরাতে ও যাত্রী ভোগান্তি কমাতে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা।