ধ্রুব ডেস্ক
❒ মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ ও মোছা. সাবিরা সুলতানা মুন্নী ছবি: সংগৃহীত
যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোছা. সাবিরা সুলতানা মুন্নীর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনে দীর্ঘ আপিল শুনানি শেষে স্বতন্ত্র প্রার্থীর দায়ের করা অভিযোগ খারিজ করে সাবিরা সুলতানার প্রার্থিতা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।
ঝিকরগাছা প্রতিনিধি জানান, গত ১ জানুয়ারি জেলা রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসানের যাচাই-বাছাইয়ে সাবিরা সুলতানার মনোনয়নপত্র বৈধ বলে বিবেচিত হয়েছিল। তবে হলফনামায় প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণের তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলে তার প্রার্থিতা বাতিলের জন্য নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহুরুল ইসলাম। শুক্রবার সেই আপিলের ওপর দীর্ঘক্ষণ যুক্তিতর্ক শেষে কমিশন জহুরুল ইসলামের আবেদনটি নামঞ্জুর করেন এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া বৈধতার সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন।
সাবিরা সুলতানা মূলত তার প্রয়াত স্বামী, ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নাজমুল ইসলামের ব্যাংক ঋণের গ্যারান্টার ছিলেন। ব্যাংক এশিয়া পিএলসি-র ঢাকার একটি করপোরেট শাখা থেকে নেওয়া ওই ঋণের বকেয়া পাওনার পরিমাণ ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৯ কোটি ৪৯ লাখ ৭ হাজার ৫৮২ টাকা। এই ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার দায়ে ঢাকার ২ নম্বর অর্থঋণ আদালতে একটি মামলা (নং-১৬৭/২০২৫) বর্তমানে চলমান রয়েছে। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সাথে সাবিরা সুলতানার পক্ষ থেকে বিষয়টি সমঝোতার প্রক্রিয়া চলছে এবং অচিরেই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিতে পারে।
নির্বাচনী আপিল আদালতে তথ্য গোপনের আবেদনটি খারিজ হয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ পক্ষ উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন বলে একটি সূত্র দাবি করেছে। উল্লেখ্য, আগামী ১৯ জানুয়ারি অর্থঋণ আদালতে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
অন্যদিকে, একই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের মনোনয়নপত্র আগে অবৈধ ঘোষিত হলেও তিনি ইসিতে আপিল করেছিলেন। তার আপিল শুনানি গত ১১ জানুয়ারি সম্পন্ন হলেও এর চূড়ান্ত রায় ঘোষণার তারিখ ১৬ জানুয়ারি থেকে পিছিয়ে আগামীকাল ১৭ জানুয়ারি (শনিবার) নির্ধারণ করা হয়েছে বলে নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে।
২০১১ সালে স্বামী নাজমুল ইসলাম অপহৃত ও নিহত হওয়ার পর সাবিরা সুলতানা রাজনীতিতে সক্রিয় হন। স্বামীর মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ঋণের দায়ভার নিয়ে আইনি জটিলতায় পড়লেও ইসির আজকের সিদ্ধান্ত তার সমর্থকদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।