Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

১৩ বারের চেষ্টায় শিশুর ফুসফুস থেকে বার করা হলো চম্বুক খন্ড

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : শুক্রবার, ৬ নভেম্বর,২০২৬, ০৮:২৪ এ এম
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর,২০২৬, ১০:২৬ পিএম
১৩ বারের চেষ্টায় শিশুর ফুসফুস থেকে বার করা হলো চম্বুক খন্ড

ছবি: সংগৃহীত

উফ্‌ফ, মনে হচ্ছে যেন যুদ্ধ জয় করলাম!’’

ছ’বছরের শিশুর প্রাণ বাঁচানোর জন্য মরিয়া চেষ্টা চিকিৎসকদের। একবার-দু’বার নয়। অন্তত বারো বার। প্রতিবারই বিফল। তবুও হাল না ছেড়ে শিশুর গলায় আটকে থাকা চুম্বক বার করার জন্য চিকিৎসক ছুটলেন মানিকতলার লেদ কারখানায়। শেষপর্যন্ত তেরো বারের চেষ্টায় চুম্বক দিয়েই গলায় আটকে থাকা চুম্বক বার করে শিশুকে নতুন জীবন দিলেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ইএনটি বিভাগের চিকিৎসকেরা।

গত মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের বাদুড়িয়ার মহেশপুরের বাসিন্দা আরাফত আলিকে (৬) নিয়ে তার মা কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের নাক-কান-গলার বহির্বিভাগে নিয়ে আসেন। চিকিৎসক দীপ্তাংশু মুখোপাধ্যায় জানান, শিশুর কাশির পাশাপাশি শ্বাসকষ্টের উপসর্গ ছিল। আরাফতের বুকের সিটি স্ক্যান, এক্স-রে পরীক্ষায় দেখা যায়, তাবিজের মতো দেখতে একটি চুম্বক শিশুটির শ্বাসনালি পেরিয়ে ফুসফুসের ডান দিকে আটকে রয়েছে। সময় নষ্ট না করে শিশুকে নাক-কান-গলা বিভাগে ভর্তি করিয়ে স্থিতিশীল করেন সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। এর পর বুধবার ব্রঙ্কোস্কোপির সাহায্যে চিকিৎসকেরা চুম্বক বার করার চেষ্টা করেন। প্রথমে অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর দীপ্তাংশু মুখোপাধ্যায় ফরসেপ দিয়ে ডান দিকের ফুসফুসে আটকে থাকা চুম্বককে বার করে আনতে সচেষ্ট হন। দীপ্তাংশু চারবার চেষ্টার পরেও সফল না হওয়ায় বিভাগীয় প্রধান সৌমেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ‘অপারেশন চুম্বক’ শুরু করেন। কিন্তু তিনিও সফল হননি। চিকিৎসক দীপ্তাংশু বলেন, ‘‘ফরসেপ দিয়ে আটকে থাকা চুম্বক ধরাই যাচ্ছিল না। কিছুতেই চুম্বকটিকে ভোকাল কর্ডের উপরে তুলে আনতে পারছিলাম না। যত বারই চেষ্টা করি তত বারই ফস্কে যায়!’’ শিশুর শ্বাসপ্রশ্বাস সচল রাখতে গলায় ছিদ্রপথ তৈরি করে ‘ট্র্যাকিওস্টমি’ করা হয়েছিল। এই ছিদ্রপথের মাধ্যমে একটি বিশেষ ধরনের টিউব প্রবেশ করিয়ে নাক-মুখের বিকল্প পথে রোগীর শ্বাস নেওয়ার ব্যবস্থা করেন চিকিৎসকেরা। সেই পথে চুম্বক বার করে আনার চেষ্টাও বিফলে যায়।

তবে হাল ছাড়েনি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ইএনটি বিভাগ। কার্ডিওথোরাসিক বিভাগের সাহায্য নিয়ে ‘থোরাকোটমি’র মাধ্যমে শিশুর বুকে আটকে থাকা চুম্বক বার করার জন্য এসএসকেএমের সঙ্গে যোগাযোগ করে মেডিক্যালের ইএনটি বিভাগ। ‘থোরাকোটমি’ হল এক ধরনের চিকিৎসাপদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে রোগীর পাঁজরের মধ্যবর্তী অংশে ছিদ্রপথ তৈরি করে প্রয়োজনীয় জায়গায় কার্ডিওথোরাসিক সার্জনেরা অস্ত্রোপচার করেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত আরাফতের জন্য এসএসকেএমে পিকু (পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) বেড জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের ঘনিষ্ঠ পরিসরের আলাপ-আলোচনায় চুম্বক দিয়ে চুম্বক তোলার ভাবনা উঠে আসে। ছ’বছরের শিশুকে রক্ষা করতে সত্যিই তা সম্ভব কি না জানতে এ দিন সকালে মানিকতলায় যান চিকিৎসক দীপ্তাংশু। মানিকতলায় অনেকগুলি লেদ কারখানা রয়েছে। সেরকমই একটি লেদ কারখানার কর্মী প্রভাকর কাঁড়ারের সঙ্গে কথা বলে শিশুর শারীরিক পরিস্থিতি জানানো হয়। চিকিৎসকের মোবাইলে থাকা এক্স-রে’র ছবি দেখিয়ে চুম্বকের আকার সম্পর্কে একটি ধারণা দেওয়া হয়। প্রভাকর চিকিৎসককে জানান, শিশুর ফুসফুসে যে চুম্বকটি আটকে রয়েছে, সেটি খুব একটা শক্তিশালী নয়। সাধারণত, খেলনায় এ জাতীয় চুম্বক ব্যবহার করা হয়। এই কারণেই অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশে লোহা থাকলেও তাতে কাজ হয়নি। এর জন্য শক্তিশালী চুম্বক তৈরি করতে হবে এবং সেটি তিনি করে দিতে পারবেন।

হাওড়ার শ্যামপুরের বাসিন্দা প্রভাকর বলেন, ‘‘আমাকে বলা হয়েছিল, এমন ভাবে চুম্বক তৈরি করতে হবে যাতে ফরসেপের মুখে সেটি লাগিয়ে ফুসফুসের কাছে পৌঁছোনো যায়। ডাক্তারবাবু যেমন বলে দিয়েছিলেন, সেই মাপের একটা শক্তিশালী চুম্বক বানিয়ে দিয়েছিলাম। যাতে আমার বানানো চুম্বকের সাহায্যে সহজে আটকে থাকা চুম্বককে টেনে তোলা যায়। আমার বানানো চুম্বকের জন্য একটা বাচ্চার প্রাণ বাঁচল ভেবে ভালো লাগছে।’’

প্রভাকরের বানানো চুম্বক নিয়ে দুপুরে হাসপাতালে পৌঁছেই অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি শুরু করে দেওয়া হয়। ইএনটি’র বিভাগীয় প্রধান সৌমেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে অ্যানাস্থেটিস্ট দেবাশিস ঘোষ, আত্রেয়ী ঘোষের পাশাপাশি ছয় চিকিৎসকের দলে ছিলেন চিকিৎসক দীপ্তাংশু মুখোপাধ্যায়, শুভ্রজিৎ নস্কর, উদিতা সোরেন। প্রভাকরের তৈরি করা চুম্বকে কাজ হয়। আকৃতিতে ছোট হলেও আটকে থাকা চুম্বককে টেনে আনে প্রভাকরের চুম্বক। আরাফতের শ্বাসপ্রশ্বাস সচল রাখার জন্য যে ট্র্যাকিওস্টমি করা হয়েছিল, সেখানে একটি টিউব ঢুকিয়ে এমন ব্যবস্থা করা হয়, যাতে চুম্বক আর ফুসফুসে চলে না যায়। এর পর ট্র্যাকিওস্টমির ছিদ্রপথ দিয়েই বার হয় শিশুর ফুসফুসে তিনদিন ধরে আটকে থাকা চুম্বক। সফল অস্ত্রোপচারের পরে এ দিন চিকিৎসক দীপ্তাংশু বলেন, ‘‘শিশুটির দু’টি ফুসফুসের মধ্যে হাওয়া চলাচল শুরু হয়েছে। এখন আইসিইউয়ে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। উফ্‌ফ, মনে হচ্ছে যেন যুদ্ধ জয় করলাম!’’

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)